ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়ার জন্মভূমি হিসেবে ফেনী সম্মানিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘ফেনীর মানুষের যেমন বিএনপির কাছে অনেক দাবি রয়েছে, তেমনি বিএনপিরও ফেনীবাসীর কাছে বড় দাবি আছে ধানের শীষকে বিজয়ী করার। খালেদা জিয়া ফেনীর মেয়ে। এখানে ধানের শীষ বিজয়ী হলে ফেনীর সম্মানই বাড়বে।’’
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘‘ফেনী সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পৈতৃক এলাকা। এখানে ধানের শীষ বিজয়ী হলে তাঁর সম্মান আরো বৃদ্ধি পাবে।’’ এ সম্মান সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘‘বিএনপি মানুষের জন্য রাজনীতি করে এবং জনগণই দলের রাজনৈতিক শক্তির মূল উৎস।’’ প্রায় ১৭ বছর পর দেশে ফিরে মানুষের কল্যাণে কিছু পরিকল্পনা নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এ সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে হবে।’’
শহর ও গ্রামের পরিশ্রমী নারী সমাজের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘‘কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন, এই অল্প সহযোগিতায় কী হবে? কিন্তু এই সহায়তায় যদি একটি পরিবার অন্তত এক সপ্তাহ স্বস্তি পায়, তাতেই বিএনপি সফল বলে মনে করে।’’
বিএনপি নির্বাচিত হলে দেশের কৃষকদের নিয়ে দলের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘‘কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হবে। এর মাধ্যমে তারা বিনামূল্যে সার ও বীজ পাবে। জনগণের সমর্থন পেলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’’
ভোটের দিন ভোরে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করে সারা দিন কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ফলাফল জানা পর্যন্ত অবস্থান করতে হবে।’’
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ থাকলেও তা করবেন না উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘এতে জনগণের লাভ নেই। জনগণের লাভ হবে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখলে।’’
ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং গ্রামাঞ্চলের নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা দিতে সারা দেশে হেলথ কেয়ার ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি। এ সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত পল্লী চিকিৎসক ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘ছোটখাটো অসুস্থতায় মানুষ যেন ঘরে বসেই চিকিৎসা পায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।’’
২০২৪ সালের বন্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘উজানের পানিতে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে এসব এলাকায় খাল খনন কর্মসূচি নেওয়া হবে।’’
তরুণ ও যুব সমাজের কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘‘ফেনী অঞ্চলে ইপিজেড স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি বিদেশগামীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।’’
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘‘দেশের মানুষ এমন পরিবর্তন চায়, যাতে তাদের কষ্ট লাঘব হয় এবং তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারে। এজন্য আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’’
বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সম্পদ লুটপাট করে বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘‘আমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি ও অনিয়মের লাগাম টেনে ধরা হবে।’’
সরকার গঠনের সুযোগ পেলে শহীদ জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
সমাবেশে তারেক রহমান ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ১৩টি সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালের সঞ্চালনায় সমাবেশে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনী মহাসমাবেশে অংশ নেন তারেক রহমান। ফেনীর জনসভা শেষে তিনি কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেন। রাতে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে সর্বশেষ জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।