সারা বাংলা

আমাদের জানা আছে, কীভাবে তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয়: তারেক

সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে টেনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আমাদের জানা আছে, কীভাবে তরুণ-বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হয়।”

ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনার সমালোচনা করে জামায়াত নেতারা দক্ষ মানুষ গড়ে তোলার পাল্টা যে প্রচার চালাচ্ছেন, তার জবাব দিতে গিয়ে তারেক রহমান এই কথা বলেন।

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী এলাকার ‘ডিগবাজি’ মাঠে কুমিল্লা মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান তার দলের পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সমালোচনারও জবাব দেন। প্রায় ২৫ মিনিট বক্তব্য দেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড পেলে পরিবারের মায়েদের সংসার চালাতে একটু সুবিধা হবে, চাপ কমবে।”

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপের কথা টেনে তারেক রহমান বলেন, “তিনি দেশের নারীদের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করেছিলেন। বিএনপি আগে বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিল, এবার তাদের আমরা স্বাবলম্বী করতে চাই। আমরা ধীরে ধীরে মা-বোনদের সবার কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব।”

এসময় জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “এখানে কারা কারা বিয়েশাদি করেছেন; হাত তোলেন তো!” তখন বহু হাত ওঠে, তিনি তাদের উদ্দেশে বলেন, “এখন কি একজনের আয়ে সংসার চলে? তখন জনতার মাঝ থেকে উত্তর আসে, “না।” তারেক রহমান বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড পেলে যারা বিয়ে করেছেন, তাদের সংসার চালাতে একটু সুবিধা হবে।”

তারেক রহমান কুমিল্লার সুয়াগাজীর জনসভায় কৃষক কার্ড, খাল খনন ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। 

এ সময় তিনি বলেন, “কে কে যাবেন আমার সঙ্গে খাল কাটতে?” উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে চিৎকার তার প্রশ্নের হ্যাঁ-সূচক জবাব দেন।

তারেক রহমানের বক্তব্যের মধ্যে কুমিল্লা বিভাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি তাদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, “বিভাগ আমরা করব, তবে আগে পেটে ভাত তো লাগবে।”

চট্টগ্রামের ইপিজেড তুলনা টেনে তারেক রহমান কুমিল্লার উন্নয়নে এই জেলাতেও ইপিজেড করে কর্মসংস্থার বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেন। 

তরুণদের প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য ও অন্যান্য দেশে তাদের পাঠানোর পরিকল্পনার কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, জেলা-উপজেলাতে নয়, গ্রামে গ্রামে হেলথ কেয়ারার যাবে, তারা মা-বোনদের কাছে গিয়ে ছোটখাটো অসুখের চিকিৎসা দেবে।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের এখন মূল চিন্তা জনগণকে ভালো রাখা। আমাদের উদ্দেশ্য, মানুষ যদি আগে ১০ পার্সেন্ট ভালো থাকে, তাহলে আমাদের লক্ষ্য সেটাকে ২০ পার্সেন্টে নেওয়ার। আমরা ধীরে ধীরে সেটাকে বাড়াব।” 

“আমরা নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিয়েছি। আমি চাইলে, আমার প্রতিপক্ষ দলের সমালোচনা করতে পারি কিন্তু সমালোচনা করলে তো পেট ভরবে না। আমরা সমালোচনা না করে আমাদের পরিকল্পনা জানিয়েছি। আমাদের রাজনীতির মূল উৎস হচ্ছে জনগণ। তাই আমরা সব সময় জনগণকে পাশে রাখতে চাই,” দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, “কোনটা জরুরি, গিবত নাকি কাজ? তবে সমালোচনা তখনই করতে হবে যখন তারা বেশি ওলট-পালট করবে।”

এসময় তারেক রহমান সমালোচনাকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বিএনপির দেশ চালানোর অভিজ্ঞতা আছে। আমাদের এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে, আমাদের এই কৃষক কার্ড নিয়ে অন্যান্য দল অনেক সমালোচনা করছে। শুনেছি আমি, আপনারাও দেখেছেন পত্রপত্রিকায়।”

এসব সমালোচনাকে পাত্তা না দেওয়ার সুরে তারেক রহমান বলেন, “ওরা যা কয় কউক, আমাদের কিচ্ছু যায় আসে না।”

সবশেষে তারেক রহমান বলেন, “তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। কিন্তু ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হলে আপনারা তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোরবেলা ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তারপর কেন্দ্রের দরজা খোলামাত্র ধানের শীষে ভোট দেবেন। কেউ যাতে ষড়যন্ত্র করে আপনাদের অধিকার নষ্ট করতে না পারে।”

 ‘শেষ কথা বলতে চাই’ বলে তারেক রহমান স্লোগান ধরেন, যার সঙ্গে গলা মেলায় মাঠের জনতা। তখন “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ,” স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে জনসভার মাঠ। 

“দেখা হবে খাল খননে,” বলে মাইক্রোফোন হস্তান্তর করে মঞ্চ থেকে মেনে যান তারেক রহমান।

দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে কুমিল্লা-৬ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী, বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। 

আরো বক্তব্য দেন চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ আসনের প্রার্থী লায়ন হারুনুর রশিদ, কুমিল্লা-৯ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. আহসানুল হক মিলন, কুমিল্লা-৭ আসনের প্রার্থী ড. রেদোয়ান আহমেদ, কুমিল্লা-১০ আসনের প্রার্থী মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, চাঁদপুরের কচুয়া আসনের প্রার্থী জালাল উদ্দিন, ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, কুমিল্লা-৫ আসনের প্রার্থী হাজী জসিম উদ্দিন, চাঁদপুরের শাহারাস্তি আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মমিনুল হক।

সব প্রার্থীকে মঞ্চে এনে তাদের জন্য ভোট চান তারেক রহমান।

জনসভা সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান দোলন।

এর আগে, সকাল থেকেই সুয়াগাজীর ফুলগাজী এলাকার সমাবেশস্থলে কুমিল্লা বিভিন্ন উপজেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও নেতাকর্মীরা জড়ো হোন। ৫০ একর আয়তনের ডিগবাজি মাঠটি কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। বিএনপি বলছে, প্রায় ২ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে এই জনসভায়।

সুয়াগাজীর জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার আগে তারেক রহমান চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে জনসভায় অংশ নেন।  

দাউদকান্দি পৌর এলাকায় নির্বাচনি জনসভায়ও বক্তব্য দেন তিনি। 

এর আগে ফেনীর জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন উপস্থিত হন, তার আগেই জনসভার মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সকাল থেকে মানুষ জড়ো হতে থাকে জনসভার মাঠে। তবে তারেক রহমান যখন পৌঁছান তখন সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। মাগরিবের নামাজের পর শুরু হয় ফেনীর জনসভা। 

ফেনীতে তারেক রহমানের জনসভায় লোকারণ্যে সবার দৃষ্টি ছিল মঞ্চে, তারেক রহমানের দিকে। জনতার উত্তাল ঢেউ দেখে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফেনীর সম্মান বাড়বে। এই ফেনী তার মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পেত্রিক ভূমি। 

ফেনীতে আসার আগে তিনি চট্টগ্রামের পোলো গ্রাউন্ড মাঠে বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেন। সব জনসভায় তিনি বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বারবার তুলে ধরে ধানের শীষে ভোট চান।