সারা বাংলা

ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়া জামায়াত নেতার দুঃখ প্রকাশ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শামীম আহসান ফেসবুক লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। 

দুই মিনিটের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তার শব্দচয়ন ও প্রকাশভঙ্গিতে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে, এরকম অনভিপ্রেত ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীল ও সমীচীন ভাষা ব্যবহারে সচেষ্ট থাকব।”

আরো পড়ুন: ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার আপত্তিকর বক্তব্য ভাইরাল

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। 

গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা-২ আসনের মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের একটি নির্বাচনি সভায় ডাকসু ‘মাদকের আড্ডাখানা’ ও ‘বেশ্যাখানা’ ছিল বলে মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন শামীম আহসান। 

জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকসেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।” উদাহরণ হিসেবে তিনি ২০২১ সালের ২৫ ডিসেম্বর জাগোনিউজ২৪–এ প্রকাশিত ‘দিনে মাদকসেবীদের আড্ডা, রাতে যৌনকর্মীদের দখলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান’ শীর্ষক প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া অতীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীর মাদকসেবনে জড়িত থাকার ঘটনাও বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে এবং সে সময় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, “ডাকসু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগে বর্তমানে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে—এমন তথ্য পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।”

তবে বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শব্দচয়ন ও প্রকাশভঙ্গিতে অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরকম অনভিপ্রেত ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীল ও সমীচীন ভাষা ব্যবহারে সচেষ্ট থাকব, ইনশাআল্লাহ।”

শামীম আহসান আরো বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সর্বশেষ জুলাই অভ্যুত্থানেও তাদের ভূমিকা নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা জাগিয়েছে। রাজনৈতিক বক্তব্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।”