ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের সবগুলো এখনো উদ্ধার না হওয়ায় ভোটের পরিবেশ প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কুষ্টিয়ার প্রার্থীরা।
জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে ৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৩৮টি উদ্ধার হলেও এখনো ১৭টি অস্ত্রের সন্ধান মেলেনি। গুলির সঠিক হিসাবও পাওয়া যায়নি।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আমলা পাড়া এলাকার ভোটার সুজন কর্মকার বলেন, “নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা প্রয়োজন। তা না হলে নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
মিরপুর উপজেলার ভোটার হাবিবুর রহমান বলেন, “কুষ্টিয়া সদর থানা থেকে লুটকৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হলে ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করবে। নির্বাচনের সময় অবৈধ অস্ত্রগুলো মানুষের মাঝে ভীতি সৃষ্টি করবে।”
থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, “লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।”
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির সরকার বলেন, “এখনো কেন অস্ত্রগুলো উদ্ধার হয়নি এটাই বোধগম্য নয়। অস্ত্রগুলো জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধার করা প্রয়োজন। এই অস্ত্রের কারণে নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।”
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানান, নির্বাচনে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কুষ্টিয়ায় বিজিবিও ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যম নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের চেষ্টা করবে বলেও তিনি জানান তিনি।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর মাধ্যমে কাজ চলছে।