ডাকসু নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর বহিষ্কৃত সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসানের বক্তব্যের প্রতিবাদ এবং তিন দিনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে বরগুনা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের এই আল্টিমেটাম দেন ছাত্রদলের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নিয়ে জামায়াত নেতা শামীমের বক্তব্য অগ্রহণযোগ্য এবং কুরুচিপূর্ণ। এ সময় তারা এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তিন দিনের মধ্যে শামীম আহসানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। অন্যথায় আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা। এর আগে একই দাবিতে বরগুনার পাথরঘাটা ও বেতাগীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
গত ২৪ জানুয়ারি রাতে বরগুনার পাথরঘাটায় নির্বাচনি জনসভায় ডাকসু নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও পাথরঘাটার কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহসান। তার ওই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ওই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন করে ঢাবি শিক্ষার্থীরা। এ সময় জামায়াত নেতা শামীম আহসানের কুশপুত্তুলিকা দাহ করেন তারা।
এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে শামীম আহসানের দলীয় পদ স্থগিত করার পাশাপাশি সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামী।
মানববন্ধনের বক্তব্যে বরগুনার সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আবু হানিফ বলেন, ‘‘শামীম আহসানের বক্তব্যের মাধ্যমে প্রকাশ পায় তারা স্বাধীনতা এবং বাংলাদেশ বিরোধী। তা না হলে আমাদের বোনদের নিয়ে কিভাবে তারা কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন। ডাকসুর কারণে বাংলাদেশ আজকে এই অবস্থানে পৌঁছেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে সকল আন্দোলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে যা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘এছাড়াও শামীম আহসান একটি এমপিওভুক্ত স্কুলের শিক্ষক হয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন। আমরা চাই, আগামী তিনদিনের মধ্যে শামীমকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’’
মানববন্ধন কর্মসূচির প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরগুনা জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নাবিল বলেন, ‘‘শামীম আহসান তার বক্তব্যের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই-বোনদের কটূক্তি করেছেন। ২৪ এর রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পরও আমাদের মানববন্ধন করতে হবে, তা আমরা কখনো ভাবিনি। আমরা ভেবেছিলাম ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে সম্প্রীতির বাংলাদেশ। আমরা যখন বরগুনায় বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন করেছি, তখন এই শামীম আহসানরা কোথায় ছিলেন? এখন তাদের এত সাহস কোথা থেকে আসে? আমরা তিন দিনের সময় দিচ্ছি, এর মধ্যে শামীম আহসানকে গ্রেপ্তার করতে হবে। যদি এ সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।’’