বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘‘বিএনপির সরকার নাকি দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন ছিল, তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদে তাদেরও তো দুইজন সদস্য বিএনপির সরকারে ছিল। বিএনপি যদি এতই খারাপ হতো, তাহলে তারা কেন সরকার ছেড়ে চলে আসেননি।’’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহ শহরের সার্কিট হাউস মাঠে বিভাগীয় বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনি প্রচারে বিএনপির সরকারের সময় দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে এনেছে।
জামায়াতে ইসলামীর বিএনপির সরকার ছেড়ে না আসার কারণ ব্যাখ্যা করে তারেক রহমান বলেন, ‘‘কারণ তারা জানতেন খালেদা জিয়া কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন করছেন। তারা ভালো করেই জানতেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতি প্রশ্রয় দেন না। সব আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান বলে, খালেদা জিয়ার সময় দেশ দুর্নীতি থেকে বের হয়ে আসতে শুরু করে।’’
ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘‘দেশে ১৬ বছর গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার হয়েছে অসংখ্য মানুষ। মানুষের স্বাধীনতা বা অধিকার ছিল না। আগামী ১২ তারিখ যে ভোট হবে, তার মাধ্যমে অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। মানুষের ন্যায্য অধিকার যেন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেই জন্য দরকার ভোটের অধিকার।’’
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘একজন অভিভাবক চায় তার সন্তান যেন সঠিক শিক্ষা পায়। একজন অভিভাবক চায় তার সন্তানের শিক্ষা শেষে কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ। তার সন্তান কর্মহীন থাকবে না।’’
তিনি বলেন, ‘‘এই অঞ্চলে কৃষক ভাইদের অনেক সমস্যা রয়েছে। মাছের পোনা চাষ করতে গিয়ে সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে, মাছের পোনা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিদেশেও রপ্তানি করা যায় কীভাবে, তার ব্যবস্থা করা। যাতে করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।’’
দেশের নারী জনসংখ্যার গুরুত্বের কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের জনসংখ্যার মধ্যে অর্ধেক নারী। নারীকে পিছনে রেখে কোনোভাবেই দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। এ জন্যই আমরা গৃহিণীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। যাতে করে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রত্যেকটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারি। এতে স্বাচ্ছন্দে তারা অন্তত হলেও কয়েকটি দিন অতিবাহিত করতে পারবে।’’
দেশ পরিচালনায় বিএনপির অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘দেশ পরিচালনা করতে একটি রাজনৈতিক দলের সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে তারা জনগণের জন্য কী করবে? বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে, কীভাবে গ্রাম অঞ্চলে রাস্তাঘাট করতে হয়, চিকিৎসার মান উন্নয়ন করতে হয়, বাংলাদেশের মানুষকে নিরাপদ রাখতে হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে কীভাবে কঠোর হাতে নিরাপদ রাখতে হয়, কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।’’
তারেক রহমান বলেন, ‘‘সারা জেলায় অসংখ্য খাল রয়েছে। খালগুলো পুনঃখনন করে দেওয়া হবে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে। আগামী ১২ তারিখ ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে খাল খনন শুরু করা হবে।’’
১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে সকলকে নিয়ে ভোট কেন্দ্র যাওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। পরে তিনি বিভাগের ২৪ আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএনপির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদ আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকনুজ্জামান সরকার, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম—আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।
তারেক রহমান মঞ্চে উঠার আগে বক্তব্য রাখেন বিভাগের চার জেলা থেকে আগত ধানের শীষের মনোনীত ২৪ জন প্রার্থী, স্থানীয় এবং জাতীয় নেতারা। তারা বলেন, ‘‘সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আগামীতে বৃহৎ স্বার্থে ধানের শীষকে নিবার্চনে বিজয়ী করতে হবে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী না হতে পারলে দেশের অস্তিত্ব থাকবে না। এই নিবার্চনে মাধ্যমে মানুষের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পাবে।’’
এর আগে ঐতিহাসিক সার্কিট হাউস মাঠে বিভিন্ন জেলা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়। মিছিল ও স্লোগানে ময়মনসিংহ শহর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।