বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আগামী ১২ তারিখে সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি। ‘হ্যাঁ’ জিতলে দেশ জিতবে আর ‘না’ জিতলে দেশ হারবে।”
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাটে ষাট গম্বুজ ইউনিয়নে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াতের আমির বলেছেন, “আমরা চাঁদাবাজমুক্ত দেশ গড়তে চাই। জামায়াতে ইসলামী ভোট ও ভাতের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর।”
জামায়াতে ইসলামীর বাগেরহাট জেলা কমিটির আমির মাওলানা রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “নাগরিকদের দেশপ্রেম ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছে।
উন্নয়ন বৈষম্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “২০১৫ সালে শরণখোলায় এসে জমির আইল ধরে হাঁটতে হয়েছে।”
তিনি বলেন, “যারা প্রকৃত উন্নয়ন করেছে, তাদেরকে ধন্যবাদ জানানো উচিত। তবে, যারা উন্নয়নের নামে পকেট ভারী করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে এবং তথাকথিত ‘বেগম পাড়া’ গড়েছে, তাদের প্রতি ধিক্কার।”
নির্বাচনে জয়ী হলে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের ঘোষণা দিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, “যে এলাকা যত বেশি পিছিয়ে, সে এলাকার জন্য তত বেশি বরাদ্দ থাকবে।”
তিনি দাবি করেন, শুধু ইনসাফ কায়েম করা গেলেই পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব।
“আমাদের কোনো ধান্দা নেই। আমাদের ধান্দা, শুধু দেশ গড়া,” বলেন তিনি।
এ সময় তিনি ভোটের সুরক্ষার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “কেউ যদি জোরপূর্বক বা কৌশলে ভোট ছিনিয়ে নিতে চায়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নিজেদের ভোটের পাহারাদার নিজেদেরকেই হতে হবে।”
জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ইউনুস, বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াদুদ ও অধ্যক্ষ মো. আব্দুল আলীম। আরো বক্তব্য দেন—বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম।
জনসভার শেষ পর্বে বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেওয়া হয়।