সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালের তিনতলা ভবনটি ধাপে ধাপে নির্মাণ করা হলেও এখন সেটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। পুরোনো ও জীর্ণ এই ভবনে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন কুষ্ঠ রোগীরা। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।
হাসপাতালের হেড অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব্বির আহমেদ বলেন, “এই ভবনটির অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষার মৌসুমে দেয়াল থেকে পলেস্তরা পড়তে শুরু করে।”
হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে রোগীদের রয়েছে অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৭০ বছর বয়সী এক রোগী বলেন, “আমার হাত পচে গিয়েছিল। এখানে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় সব টেস্ট বাইরে করাতে হয়েছে।”
৬৫ বছর বয়সী আরেক রোগী জানান, শরীরের চামড়ায় প্রথমে ফ্যাকাশে দাগ দেখা দিলেও পরে সেটি কুষ্ঠরোগ হিসেবে শনাক্ত হয়। তিনি বলেন, “১৪ দিন আগে ভর্তি হয়েছি। সারাদিনে চিকিৎসক মাত্র একবার আসেন। এর ওপর এই ভবনে থাকতে ভয় লাগে—যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।”
বহির্বিভাগের রোগী আক্তার হোসেন বলেন, “হাসপাতালে থাকলে চোখ রাখতে হয় মাথার ওপর। কখন ছাদ থেকে কী পড়ে—সেই ভয় কাজ করে।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে বর্তমানে হাসপাতালটিতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৯ জন। কুষ্ঠ রোগীদের জন্য বিশেষ জুতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ২০২১ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যাও কমে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালে রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইনডোরে ভর্তি রোগীরা প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিও অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে।
সিলেট কুষ্ঠ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. নাহিদ রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কুষ্ঠরোগের জন্য তিনটি বিশেষায়িত হাসপাতালের মধ্যে সিলেটের হাসপাতালটি সবচেয়ে বড়। বাস্তবতা হলো- এই হাসপাতালের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”
কুষ্ঠ হাসপাতালের পরিস্থিতি নিয়ে সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে অবগত। এটি নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা মেনেই কাজ করা হবে।”