শেরপুর-৩ আসনে ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিমকে (৪২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসন। এখানকার জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল রাইজিংবিডি ডটকমকে এই তথ্য দিয়েছেন।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান রেজাউল করিম।
শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে রেজাউল করিম। তিনি উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক ছিলেন।
জামায়াতের প্রার্থী নূরুজ্জামান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থান অবনতি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনা সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। যদি আমরা বিচার না পাই, তাহলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
একই দিন ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক চেয়ার বসতে না পেরে হট্টগোল শুরু করেন। এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আশপাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শেরপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, “মৃত্যুর কথা শুনেছি। পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হবে।”