ফেনীতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মহিপালে আওয়ামী লীগের গুলিতে নিহত শহীদ ওয়াকিল আহমেদ শিহাবের মা আফরোজা আক্তার। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, পূর্বনির্ধারিত সামিয়ানার নিচে শহীদ পরিবারের সদস্যরা বসে ছিলেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সেখানে পৌঁছে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে উপস্থিত পরিবারগুলোর সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় শহীদ শিহাবের মা আফরোজা আক্তার আবেগাপ্লুত হয়ে ডা. শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে থাকেন। ডা. শফিকুর রহমান তাকে শান্তনা দেন এবং বিচারের আশ্বাস দেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে ফেনী জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আবু হানিফ হেলাল বলেন, “একজন সন্তানহারা মা আবেগপ্রবণ হয়ে জামায়াতের আমিরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করেছেন। এতে নেতিবাচক কিছু খোঁজা অত্যন্ত হীন মানসিকতার পরিচয়। তিনি তার সন্তানের হত্যার বিচার চাইছেন। মায়ের কান্নাকে যারা নোংরাভাবে উপস্থাপন করতে চান, তাদের মানবিকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের পিতা নাসির উদ্দিন বলেন, “সন্তান হারানোর যন্ত্রণা যার হয়েছে, সেই বুঝতে পারে। আমরা বাবারা কিছুটা সামলে নিতে পারলেও মায়েরা পারেন না। ডা. শফিকুর রহমান সামনে আসতেই সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। ওই মুহূর্তে শহীদ শিহাবের মা আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।”
জানতে চাইলে শহীদ শিহাবের মা আফরোজা আক্তার বলেন, “ডা. শফিকুর রহমান আমার পিতার বয়সী। অনুষ্ঠানে আমাদের সন্তানদের নিয়ে বক্তব্য শোনার সময় থেকেই আমি কান্না করছিলাম। তিনি সামনে আসলে আবেগ সামলাতে পারিনি। সেখানে শহীদ শ্রাবণ ও মাসুদের মায়েরাও ছিলেন, তারাও কান্না করছিলেন। আমি পিতৃতুল্য অভিভাবকের কাছে সন্তান হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে হয়তো বেশিই আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম। তিনি আমাদের শান্তনা দিয়েছেন, নিজেও কেঁদেছেন।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ফেনীর মহিপালে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ওয়াকিল আহমেদ শিহাব। তিনি সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর এলাকার বাসিন্দা। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি মোবাইল মেকানিকের কাজ করতেন।