সারা বাংলা

সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে ফের চাল আমদানি শুরু

পৌনে দুই মাস বন্ধ থাকার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আবারো চাল আমদানি শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহ আগে ভারত থেকে নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এই পথে চাল আমদানির জন্য এখন পর্যন্ত সাড়ে ১০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি চালের আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) ইস্যু করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে অংশ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ জন আমদানিকারককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের অপারেশন ম্যানেজার কামাল খান জানান, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৪ জানুয়ারি থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মোট অন্তত ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

তিনি জানান, ২৪ জানুয়ারি প্রথম দফায় ৭টি ট্রাকে ৩১৯ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়। এরপর ২৭ জানুয়ারি ৫টি ট্রাকে ২২০ মেট্রিক টন, ২৮ জানুয়ারি ১৫টি ট্রাকে ৫৯৭ মেট্রিক টন এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার আরো অন্তত ৬৪ মেট্রিক টন চাল বন্দরে প্রবেশ করে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, প্রকারভেদে আমদানি করা এসব চালের প্রতি কেজিতে গড় ব্যয় পড়ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা।

আমদানির প্রভাবে স্থানীয় বাজারে চালের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোমিনুল হক।

তিনি বলেন, “বর্তমানে প্রতি কেজি আমন মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৯ থেকে ৫০ টাকায়। বোরো চালের ক্ষেত্রে হাইব্রিড মোটা চাল প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা এবং হাইব্রিড সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”

সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-পরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, সর্বশেষ গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এই বন্দর দিয়ে ৫৬৩ দশমিক ৭ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় চাল আমদানি বন্ধ ছিল। বর্তমানে নতুন করে ১০ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনের আইপি ইস্যু হওয়ায় বাজারে চালের সরবরাহ বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য চালের দাম আরো সহনীয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।