সারা বাংলা

মানিকগঞ্জে ৫১৫ কেন্দ্রের ভোটার ১৩ লাখ 

আর মাত্র ১০ দিন পরই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে তিনজন জনপ্রতিনিধিকে ভোটের মাধ্যমে বেছে নেবেন জনগণ। নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ছুটছেন ভোটের প্রত্যাশায়। এবার মানিকগঞ্জে ৫১৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৪ জন। প্রশাসনের ভাষ্য, এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য সার্বিক সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

জেলা নির্বাচন অফিসের প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জেলার ৬৫টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভার ভোটারদের জন্য মোট ৫১৫টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। 

মানিকগঞ্জ-১ আসনে (দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয়) মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৭৯টি। এই আসনে কোনো অস্থায়ী কেন্দ্র নেই। তবে, ৯১৯টি ভোটকক্ষের মধ্যে ১০৬টি অস্থায়ীভাবে স্থাপন করা হয়েছে। এরমধ্যে দৌলতপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে মোট ৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ৩১২টি ভোটকক্ষ (৪০টি অস্থায়ী) রয়েছে। 

ঘিওর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ৫৭টি ভোটকেন্দ্র এবং ২৭৫টি ভোটকক্ষ (৩০টি অস্থায়ী) এবং শিবালয় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মোট ৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ৩৩২টি ভোটকক্ষ (৩৬টি অস্থায়ী) রয়েছে। 

মানিকগঞ্জ-২ (১৬৯) আসনে (সিঙ্গাইর, হরিরামপুর ও সদরের আংশিক) সর্বোচ্চ ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো জেলার মধ্যে কেবল এই আসনেই দুটি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র রাখা হয়েছে। এখানে মোট ভোটকক্ষের সংখ্যা ৮৯৮টি। 

সিঙ্গাইর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে জেলার একক সর্বোচ্চ ১০১টি ভোটকেন্দ্র রাখা হয়েছে। এখানে ৫২৯টি ভোটকক্ষ থাকবে। হরিরামপুর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ৬৫টি ভোটকেন্দ্র (দুটি অস্থায়ী কেন্দ্রসহ) এবং ২৭৬টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর (আংশিক) ভাড়ারিয়া ও হাটিপাড়া ইউনিয়নে ১৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ৯৩টি ভোটকক্ষ থাকবে।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া) ১৫১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই আসনে মোট ৭৯৭টি ভোটকক্ষ থাকবে। মানিকগঞ্জ সদর (মূল) একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ৯১টি ভোটকেন্দ্র এবং ৪৮১টি ভোটকক্ষ থাকবে। সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৬০টি ভোটকেন্দ্র এবং ৩১৬টি ভোটকক্ষ  প্রস্তুত করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, “ভোটারদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে গুগল ম্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সহজে খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে নতুন ভোটারসহ সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, “মানিকগঞ্জ জেলায় ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন করতে ২ হাজার ৩৬৭টি স্থায়ী ভোটকক্ষের পাশাপাশি ২৪৭টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে করে ভোটারদের ভিড় কমানো এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। নির্বাচনের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ভোটারদের চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।”