সারা বাংলা

নড়াইলে বেড়েছে বোরো ধানের চাষ

সকালের রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ায় নড়াইলে কোদাল আর কাস্তে হাতে মাঠে নামছেন চাষিরা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেলে পর্যন্ত বোরো ধানের জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে কাজ করছেন তারা। সার, কীটনাশক ও সেচের কোনো সমস্যা না থাকায় এবার ভালো ফলন পাবেন এমনটি প্রত্যাশা তাদের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বিগত বছরের রেকর্ড ভেঙে এবার বেশি জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে।

লোহাগড়া উপজেলার চর-কালনা গ্রামের কৃষক বুলবুল আনিস বলেন, “মৌসুমের শুরুতে শীত ও কুয়াশার দাপট থাকায় প্রথম দিকে ঠিকমতো ধানের চারা জমিতে লাগাতে পারিনি। ২০দিন আগে বিরূপ আবহাওয়া বদলে যাওয়ায় কৃষকরা বোরো ধান রোপণ করছেন পুরোদমে।”

সদর উপজেলার চৌগাছা গ্রামের ইব্রাহিম শেখ বলেন, “আমি ১৮০ শতক জমিতে বোরো ধান রোপণ করছি।” 

একই গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, “তিন একর জমিতে বোরো ধানের চারা লাগিয়েছি। শীতের শুরুতে সমস্যা হলেও এখন খুব ভালো পরিবেশ। বর্তমানে সার, কীটনাশক ও সেচের কোনো সমস্যা নেই।”

কালিয়া উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের কৃষক মোরাদ বলেন, “আগের দিনে গরু দিয়ে চাষাবাদ করা হলেও এখন পাওয়ার ট্রিলার দিয়ে জমি চাষ করা হচ্ছে। এতে সময় কম লাগছে। তুলনামূলক খরচও কম। ১৩৫ শতক জমিতে রডমিনিকেট ধান রোপণ করছি। এ জাতের ফলন ও দাম ভালো। ভাত খেতেও মজাদার। বিছালি বা খড় খুব ভালো হয়।”

নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, “এ বছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ মৌসুমে নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ মওসুমে ৫০ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে ধান হয়েছিল। ২০২৩-২৪ মৌসুমে আবাদ করা জমির পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ২৩০ হেক্টর। ফলে তিন বছরের ব্যবধানে নড়াইল জেলায় ৬৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ বেশি হয়েছে।”