সারা বাংলা

বাড়ছে নির্বাচনি উত্তাপ, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড দাবি প্রার্থীদের

পাবনার দুটি আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচারে বাধা, হামলা এবং নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। যা উত্তাপ বাড়াচ্ছে পাবনার নির্বাচনি মাঠে। প্রশাসনের কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির দাবি জানিয়েছেন স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থীরা।

গত ২৮ জানুয়ারি ঈশ্বরদীতে হামলা চালিয়ে পাবনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বহিষ্কৃত) জাকারিয়া পিন্টুর মোটরসাইকেল প্রতীকের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করার অভিযোগ ওঠে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। 

গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলায় অন্তত পাঁচটি ঘটনায় পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের (বিএনপির বহিষ্কৃত) ঘোড়া প্রতীকের নির্বাচনি প্রচারের মাইক, নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও প্রচারে বাধা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ধানের শীষের কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর বাইরে আসন দুটিতে জামায়াতের প্রচারে বাধা এবং মারধরের কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে একই দলের বিরুদ্ধে।

পাবনা-৩: এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও চাটমোহর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। প্রার্থী হয়েছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আলী আছগার।

পাবনা-৪: এখানে বিএনপির প্রার্থী দলটির জেলা আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু। এই আসনে প্রার্থী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।

ভোটারদের ধারণা, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত দুই নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় পাবনা-৩ ও ৪ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্রমান্বয়ে উত্তাপ বাড়ছে নির্বাচনি মাঠে।

 

পাবনা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “নির্বাচনি প্রচার শুরুর পর থেকে বিএনপির লোকজন আমাদের বাধা দিয়ে চলেছে। তারা মাইক ভাঙচুর করেছে, ব্যানার-ফেস্টুন ছিড়ছে। আমাদের কর্মীদের মারধর করছে। এটি সুষ্ঠ নির্বাচনের অন্তরায়। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েছি। কয়েকটির ব্যবস্থা তারা নিয়েছেন। প্রশাসনের উচিত হবে আরো বেশি তৎপর হওয়া।”

অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, সাধারণ মানুষ এতবছর ভোট দিতে পারেনি। মুখিয়ে আছেন ধানের শীষে ভোট দিতে। নিজেদের পরাজয় বুঝতে পেরে মনগড়া অভিযোগ করা হচ্ছে। অভিযোগ করে কোনো লাভ হবে না। সুষ্ঠু পরিবেশ আছে, ভোটও শান্তিপূর্ণ হবে।” 

 

পাবনা-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন আমার মোটরসাইকেল প্রতীকের লোকজনকে বিভিন্ন এলাকায় মারধর করছে। তারা অফিস ভাঙচুর করছেন। নারী কর্মীদের প্রচারে বাধা দিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত প্রশাসন যেটুকু ব্যবস্থা নিয়েছে তা সন্তোষজনক। তবে, আরো তদারকি বাড়ানো দরকার। আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, যাতে মানুষ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন।”

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের অভিযোগ, ধানের শীষের প্রার্থীর লোকজন তাদের কর্মীদের প্রচার কাজে বাধা ও মারধর করছেন। প্রশাসনের কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সৃস্টির দাবি জানান তিনি।

বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট হবে, পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।

পাবনা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফা বলেন, “কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। সেগুলোর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটিও মাঠে কাজ করছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা অভিযোগের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ভোটের মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।”

এবারের নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আটজন প্রার্থী। এই আসনে ভোটার আছেন ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৮০৪ জন। পাবনা-৪ আসনে ভোটের মাঠে আছেন সাতজন প্রার্থী। ভোটার আছেন ৪ লাখ ৪৪ হাজার ১৬৮ জন।