জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “রাজনীতিতে রাজার ছেলে রাজা হবে, এই ধারা আমরা পাল্টে দেব ইনশাআল্লাহ। একজন শ্রমিক ভাই কিংবা বোনের সন্তান মেধাবী হলে তার মেধা বিকাশের দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। আমরা চাই, তাদের মধ্য থেকে আগামী দিনের প্রধানমন্ত্রী বের হয়ে আসুক।”
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, “ভোটের হিসেব নিয়ে ঘরে যাবেন। ভোটের দিকে অন্যায়ভাবে কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত স্তব্ধ করে দিতে হবে। কোনো ভোট ডাকাতকে ছেড়ে দেবেন না।”
তিনি বলেন, “গাজীপুর একটা শিল্প এলাকা হওয়া সত্ত্বেও এখানে না আছে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, না আছে শৃঙ্খলা। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে শ্রমিকদের জীবনের পরিবর্তন হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সম্মান দেওয়া হয় না। বিশেষ করে মায়েদের সম্মান দেওয়াই হয় না এবং সেখানে বেতন বৈষম্য আছে। পুরুষের একধরনের আর মহিলাদের জন্য আরেক ধরনের। যদিও কাজ কিন্তু সমান। আমরা এই সমস্ত বৈষম্য দূর করে ফেলব ইনশাআল্লাহ।”
জামায়াতের এই নেতা বলেন, “গর্ভবতী অবস্থা থেকে শুরু করে বাচ্চার আড়াই বছর বয়স পর্যন্ত মায়েরা দৈনিক পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবেন এবং বাকি তিন ঘণ্টা বাচ্চাকে সময় দেবেন, যা বাচ্চার অধিকার। অনেকে বলতে পারেন, এতে তাদের আয় কমে যাবে কি না; অবশ্যই কমবে না। কারণ, বাকি তিন ঘণ্টার স্যালারি সরকার সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রদান করবে। একটি সুস্থ মা এবং সুস্থ শিশু আগামী দিনের সুস্থ সমাজের জন্য এই সম্মানটুকু তাদের দিতেই হবে।”
শফিকুর রহমান বলেন, “অনেক মা আট ঘণ্টা অবুঝ বাচ্চাকে একা রেখে কাজ করতে পারেন না বলে চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু আমরা চাই, মায়েরা চাকরিতেও থাকবেন, আবার বুকের সন্তানকেও জড়িয়ে ধরবেন। শুধু তাই না, শিল্প এলাকায় আমরা সংখ্যা নির্ধারণ করে দেব যে নির্দিষ্ট সংখ্যক নারী শ্রমিক থাকলে সেখানে অবশ্যই তাদের বাচ্চাদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার থাকতে হবে। যেখানে কাজের ফাঁকে আধ ঘণ্টা গিয়ে তাঁরা বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে পারবেন এবং খবর নিতে পারবেন।”
গাজীপুরের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জামায়াত প্রার্থীকে ভোট দিলে কথা দিচ্ছি, আমরা বেইনসাফি করব না। যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছে, ক্ষমতায় গেলে ওদের মুখের ভেতর হাত দিয়ে পেটের ভেতর থেকে টাকা বের করে নিয়ে আসব। নিজেদের উন্নয়ন করব না; ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের উন্নয়ন করব।”