জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন “জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেবে। মুখ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে চুরির মাল বের করে আনা হবে।” এছাড়াও ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি ৫৪ বছর ধরে যারা মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে, তাদের লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার ডালিয়া পয়েন্টে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মাঘের হাড় কাঁপানো শীত আর কুয়াশা উপেক্ষা করে সকাল থেকেই মিছিলে মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে হাতীবান্ধার তিস্তা হেলিপ্যাড মাঠ। বাস, ট্রাক আর নৌকায় চড়ে হাজার হাজার মানুষ জনসভাস্থলে সমবেত হন।
দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আমিরে জামায়াত হেলিকপ্টারে সভাস্থলে পৌঁছালে লাখো জনতার উচ্ছ্বাসে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যারা অতীতে দুর্নীতিতে লিপ্ত ছিল, তাদের নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই।” উত্তরবঙ্গকে অবহেলিত রাখার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “উত্তরবঙ্গ কোনো 'সৎ মায়ের সন্তান' নয়। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে উন্নয়নের যাত্রা শুরু হবে এই বঞ্চিত অঞ্চল থেকেই।” বিশেষ করে 'তিস্তা মহাপরিকল্পনা' বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির চিত্র বদলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বক্তব্যে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কড়া সমালোচনা করেন। বিএনপিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিক্রমার পর কিছুটা 'বিশ্রাম' নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি দেশের সেবায় জামায়াতকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া, নারীদের মর্যাদা রক্ষা এবং তরুণদের হাতে আগামীর নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গণভোট ও নির্বাচনে 'হ্যাঁ' এর পক্ষে রায় দিতে জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
লালমনিরহাটের এই জনসভার আগে সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে আরো একটি বিশাল নির্বাচনি সভায় বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানেও তিনি একটি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার ওপর জোর দেন।