চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে শ্রমিক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন নৌ পরিবহন উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাখাওয়াত হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
বৈঠকে অংশ নেবেন ধারাবাহিক আন্দোলনে থাকা শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের স্কপ নেতৃবৃন্দ। নৌ পরিবহন উপদেষ্টা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক বন্দর সিবিএ নেতা কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার জানান, তারা বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ বের হবে বলে তারা আশা করছেন।
এর আগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্দর পরিস্থিতি নিয়ে নৌ উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। ওই বৈঠকও বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠক শুরুর আগে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির মুখে পড়েন নৌ উপদেষ্টা। আজ বেলা ১১টার দিকে উপদেষ্টা ঢাকা থেকে সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি বন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে বন্দর ভবনের সামনে বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
নৌপরিবহন উপদেষ্টার আগমনের খবরে সকাল থেকেই আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা বন্দর ভবনের আশপাশে জড়ো হন। চার নম্বর জেটিগেট থেকে কাস্টমস মোড় পর্যন্ত এলাকায় তারা অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
পৌনে ১১টার দিকে উপদেষ্টার গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছালে শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে দিতে সামনে এসে গাড়ি আটকে দেন। তারা ‘ভুয়া ভুয়া’ এবং ‘গো ব্যাক অ্যাডভাইজার, গো ব্যাক’সহ নানা স্লোগান দেন। এতে কিছু সময়ের জন্য পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ১৫ মিনিট পর পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে গাড়িবহরকে বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করায়। মূল ফটক দিয়ে ঢোকার সময় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। তবে একপর্যায়ে শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী স্লোগান দিতে দিতে ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।
গাড়ি থেকে নেমে ভবনে প্রবেশের সময়ও নৌপরিবহন উপদেষ্টার সামনে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পরে পুলিশ ও বন্দরের নিরাপত্তারক্ষীদের সহায়তায় তিনি দ্রুত ভবনের ভেতরে গিয়ে বৈঠকে যোগ দেন।
জানা গেছে, ওই সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বোর্ড সদস্য, প্রকল্প পরিচালক, চিটাগাং ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বন্দর ও শিপিং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকের আলোচ্য বিষয় ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কেউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকে চলমান অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে বৃহস্পতিবারও বন্দরের সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বহির্নোঙর থেকে জেটিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ আছে। পণ্য খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলো জেটিতে আটকে রয়েছে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার থেকে টানা কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।