সারা বাংলা

রাঙামাটির ২০ কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম যাবে হেলিকপ্টারে

ছয়দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচনকে সামনে রেখে রাঙামাটি পৌর এলাকা থেকে শুরু করে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ৬ হাজার ১১৬ বর্গকিলোমিটার আয়তনের রাঙামাটির ১০ উপজেলার একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন সাতজন প্রার্থী। 

আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় রাঙামাটি ২৯৯ নম্বর সংসদীয় আসন। এই আসনে সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রশাসনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে উপজেলাগুলোতে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। 

রাঙামাটি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার একটি মাত্র এই আসনে ২১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি হেলিসর্টি কেন্দ্র রয়েছে। যা অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটের আগে হেলিকপ্টারে নির্বাচনি সরঞ্জাম ও কর্মকর্তা পাঠানো হবে। গুরুত্ব বিবেচনায় ১৭০টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন মাঠে থাকবে সেনাবাহিনীর তিন হাজারের বেশি সদস্য, ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, ১ হাজার ২১২ জন পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর ২ হাজার ৭৬৯ জন সদস্য। এছাড়া নির্বাচনে সার্বিক বিষয় তদারকির লক্ষ্যে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।

বিজিবির কাপ্তাই ব্যাটলিয়ন জোন কমান্ডার লে. কর্নেল কাউসার মেহেদী জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করা হয়েছে। এই সময়ে যাতে কোনো ধরনের চোরাচালান, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার কিংবা অন্য কোনো সীমান্ত অপরাধ না হয় সে জন্য বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা ও তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে টহল, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে উপজেলা ভেদে ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মাঠে কাজ শুরু করেছে। নির্বাচনে মোতায়েন থাকবে বিজিবির বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড ইউনিট। নির্বাচনকালীন যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম এবং বিজিবির হেলিকপ্টারসহ কুইক রেস্পন্স ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। যারা মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম। 

রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, ২১৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ, ১৪৯টি গুরুত্বপূর্ণ এবং ৪৪টি সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। সব প্রস্তুতি সমানতালে চলছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি সরঞ্জাম উপজেলায় পৌঁছে গেছে।