রাজশাহীতে ‘বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের’ অভিযানে ৪টি প্রতিষ্ঠানে মোট পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। আরেকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। খাদ্যে ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগে এই অভিযান চালায় চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর লক্ষীপুর ও সিএঅ্যান্ডবি মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
নিরাপদ খাদ্য আইন- ২০১৩ লঙ্ঘন করে হাইড্রোজযুক্ত গুড় ব্যবহার, ফাঙ্গাসযুক্ত পঁচা বাদাম সংরক্ষণ ও কেমিক্যাল ড্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধের স্বর রাখার মতো অপরাধের প্রমাণ পেয়েছে আদালত। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ কঠোরভাবে প্রয়োগের অংশ হিসেবে তাৎক্ষণিক এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অভিযানে নানকিং দরবার হলে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, পোড়া তেল, ফাঙ্গাসযুক্ত কাঠের কাটিং বোর্ড, নিম্নমানের মরিচের গুঁড়া, খোলা ডাস্টবিন ও অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘরের প্রমাণ পাওয়া যায়। পাশাপাশি ক্রয়-বিক্রয়ের চালান রশিদ সংরক্ষণ না করা এবং লেবেলবিহীন পণ্য ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সিঅ্যান্ডবি এলাকায় অবস্থি রানা মিষ্টি ঘরে মেয়াদোত্তীর্ণ টক দই, ডাল, গুড় ও সসের পাশাপাশি হাইড্রোজযুক্ত গুড়, পোড়া তেল, পঁচা মিষ্টি এবং খাবার মোড়কে খবরের কাগজ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া, ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকার বিষয়টিও ধরা পড়ে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
লক্ষীপুর মোড়েরর তৃপ্তি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ফাঙ্গাসযুক্ত পঁচা বাদাম, কেমিক্যাল ড্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধের স্বর সংরক্ষণ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের খাদ্যপণ্য, পোড়া তেল, আয়োডিনবিহীন লবণ, খোলা ডাস্টবিন এবং বৈধ আমদানিকারক ছাড়া বিদেশি পণ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া, সালাম হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে ফ্রিজে সংরক্ষণ, কেওড়া জল, আয়োডিনবিহীন লবণ ও লেবেলবিহীন মসলা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত।
নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, “নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী হাইড্রোজযুক্ত গুড়, ফাঙ্গাসযুক্ত পঁচা বাদাম এবং কেমিক্যাল ড্রামে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধের সর সংরক্ষণের মতো গুরুতর অনিয়মের কারণে এসব জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এসব খাদ্য সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, “অভিযানে ক্রয়-বিক্রয়ের চালান রশিদ না থাকা, ট্রেড লাইসেন্স হালনাগাদ না করা এবং বৈধ আমদানিকারক ছাড়া বিদেশি পণ্য ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”