বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা এমন বিচার ব্যবস্থা চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের মতো ক্ষমতাবানদেরও একই আইনের আওতায় আনা হবে, অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রীও ছাড় পাবেন না।”
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঝালকাঠি সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোট আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে বিচারহীনতা ও বৈষম্য বেড়েছে। বর্তমানে বিচার ব্যবস্থায় টাকার প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট বেশি কাজ করছে।
তিনি বলেন, “আল্লাহর বিধান অনুযায়ী দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে সবার জন্য সমান বিচার থাকবে এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হবে না।”
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিষয়ে জামায়াতের আমির বলেন, “দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ জনগণের সম্পদ। তা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।“ একইসঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “অতীতে বঞ্চিত অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন করা হবে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা হবে।”
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বেকার ভাতা নয়, তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।” তিনি তরুণদের ভোটাধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
নারীদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে জামায়াতের শীর্ষ নেতা বলেন, “এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন এবং তাদের সম্মানের নিশ্চয়তা থাকবে।”
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন—জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঝালকাঠি-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, ঝালকাঠি-২ আসনের প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ অন্য নেতারা।