রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে মোবাইলে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আখতার হোসেনের অভিযোগ, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নির্বাচনি প্রচার চালানোর সময় অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হয়।
জিডিতে আখতার হোসেন উল্লেখ করেন, বিকেল অনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পীরগাছা থানাধীন ছাওলা ইউনিয়নের কিশামত গ্রামে নির্বাচনি প্রচার চলাকালীন সময়ে অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন আখতার হোসেন। তিনি বলেন, “সারাদেশের ন্যায় আমার আসনেও শাপলা কলির যারা নেতাকর্মীরা আছেন, তাদেরকে নানা সময়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে ও গোপনেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। আজকে বিকেলে হঠাৎ আমার ফোন নম্বরে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি অশ্লীল গালিগালাজ করেন, প্রাণনাশের হুমকি দেন, আমার পরিবারকে কেটে ফেলবে, মেরে ফেলবে, ইলেকশন হওয়ার পরে দেখে নেবে— এই ধরনের নানা ধরনের ভয়ঙ্কর হুমকি দিতে থাকেন। নির্বাচনের সময় প্রাণনাশের হুমকির মতো ঘটনা সত্যি আমাদেরকে ভাবিয়ে তোলে।”
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবগুলো অস্ত্র এখন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি। অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়ি আছে। একটা গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, সেটাকে ঠেকিয়ে দেওয়ার একটা প্রচেষ্টা রয়েছে। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্ক ভূমিকা আমরা প্রত্যাশা করি।”
এনসিপির এই নেতা বলেন, “ভয় দেখিয়ে, উড়ো কথা বলে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কোনোভাবেই আমাদের যে জয়যাত্রা থামিয়ে রাখা যাবে না।”
পীরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম খন্দকার মুহিব্বুল ইসলাম বলেন, “একটা জিডি হয়েছে আমাদের থানায়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা কাজ করছি।”
রংপুর-৪ আসনে বিএনপির এমদাদুল হক ভরসা, জাতীয় পার্টির মাহবুবার রহমানসহ মোট ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুটি উপজেলা ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে ভোটার ৫ লাখ ১০ হাজার।