সারা বাংলা

আসন ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপি, বড় বাধা স্বতন্ত্র ও জামায়াত প্রার্থী

সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে সমর্থন পাওয়ার আশায়। তারা এলাকার উন্নয়নে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ভোটাররা মনে করছেন, এবার এই আসনে নির্বাচন হবে ত্রিমুখী। আসন ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠা ধানের শীষের প্রার্থীর জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন  স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।  

এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল। তিনি ভোটাদের দোরগোড়ায় প্রতিদিন ছুটে বেড়াচ্ছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথে সক্রিয়ে ভূমিকার কথা তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সমর্থন চাচ্ছেন। 

বিএনপির নেতারা জানান, এই আসনে নুরুল ইসলামের জনপ্রিয়তা অনেক বেশি। তবে, তার সংসদ সদস্য হওয়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চারবারের সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই আসনে বিজয় পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন। জয়নুল জাকেরিন প্রয়াত মরমি কবি হাসন রাজার প্রপৌত্র।

এদিকে, শক্ত অবস্থানে থাকার চেষ্টায় ভোটারদের কাছে ছুটছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট সামছু উদ্দিন। মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির নাজমুল হুদা হিমেল।

বিএনপি প্রার্থী নুরুল ইসলাম নুরুল রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নেতাকর্মী ও সমর্থকরা নিজ নিজ এলাকায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। যা আমার জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আমার আসনের প্রতিটি গ্রাম থেকে হাটবাজার পর্যন্ত ধানের শীষের পক্ষে নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কাজ করছেন।”

তিনি বলেন, “সুনামগঞ্জ-৪ আসনে এবারের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও আনন্দ দেখা যাচ্ছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এমনটি আশা করছি। প্রত্যাশা করছি, জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করবে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরিন বলেন, “আমি পরপর চারবার সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এটি আমার প্রতি মানুষের আস্থা ও ভালোবাসারই প্রতিফলন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে গিয়ে আমি সুনামগঞ্জের মানুষের সুখ-দুঃখ, সমস্যা ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করেছি।”

তিনি  বলেন, “আমার বিশ্বাস এবারো সুনামগঞ্জের মানুষ আমাকে ভালোবেসে গ্রহণ করবেন এবং অতীতের মতো তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করবেন। আমি জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার মর্যাদা রাখতেই রাজনীতিতে সক্রিয়।” 

রাজনৈতিক ইতিহাস বলছে, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে সর্বশেষ ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে ছিলেন সাবেক হুইপ ফজলুল হক আছপিয়া। এরপর ২০০৮ সালের ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয় বিএনপির প্রার্থী। দীর্ঘ এই সময়টায় আসনটি দলের হাত ছাড়া থাকায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।

ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মো. সামছ উদ্দিন। নির্বাচিত হলে সুনামগঞ্জের এই আসনের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের আশ্বাস দিচ্ছেন তিনি। 

তিনি বলেন, “সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চল হওয়ায় প্রতি বছর ধান কাটা ও ধান তোলা নিয়ে কৃষকদের নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এই সংকট নিরসনে স্থায়ী ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়নে কাজ করব। কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এবং সময়মতো ধান ঘরে তুলতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণই হবে আমার অন্যতম অগ্রাধিকার।” 

জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, “আমার নির্বাচিত এলাকার স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রাম-শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন রাস্তা ও সেতু নির্মাণ এবং বিদ্যমান সড়ক-সেতু সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেব। আমি যেদিন থেকে মাঠে কাজ করছি, সেইদিন থাকে সাধারণ মানুষ আমাকে গ্রহণ করছে ও আমাকে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। আমার বিশ্বাস আমি বিজয়ী হব।” 

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে মূলত বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তারা বলছেন, গরিব-দুঃখী মানুষের জন্যে কাজ করবেন এমন প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করতে আগ্রহী তারা।

বিস্বম্ভুরপুরের একজন ভোটার আহমেদ নূর মিয়া বলেন, “নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার আসবে। আমরা চাই, যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ নির্মাণ এবং এলাকায় স্কুল-মাদ্রাসা স্থাপন ও রাস্তাঘাট করে দেন।”

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন ভোটার হোসাইন আহমেদ বলেন, “জীবনের প্রথম ভোট এটা। আমি মূল্যবান ভোট দেয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ভূমিকা রাখতে চাই। যিনি নির্বাচিত হবেন তার কাছে প্রত্যাশা থাকবে বেকারদের জন্য জেলায় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।”