টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে শেষ মুহূর্তে নির্বাচনি প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। ভোটারদের কাছে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোট চাচ্ছেন তারা। সচেতন মহলের মতে, এই আসনে ‘গেম চেঞ্জার’ হতে পারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট। মূলত তারাই নির্বাচনে প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারন করবেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল-৭ আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, দাড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন এবং হাতি প্রতীকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির তোফাজ্জল হোসেন।
এই আসনটি একটি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ১২৬টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। মোট ভোট কক্ষ ৭২৬টি। ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৭ জন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট রয়েছে ৪৭ হাজার ৫৬৫টি। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৩ হাজার ৭৬০ জন ও নারী ভোটার ২৩ হাজার ৭০৫ জন।
ভোটাররা জানান, মির্জাপুর উপজেলায় মোট ভোটারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিন্দু। বিশেষ করে মির্জাপুর পৌরসভা, গোড়াই, ভাতগ্রাম, জামুর্কী ও বাঁশতৈল ইউনিয়নসহ কয়েকটি এলাকায় হিন্দু ভোটারদের সংখ্যাগত উপস্থিতি নির্বাচনি ফলাফলে প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ সাধারণত ক্ষমতাসীন দলমুখী হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই একমুখী প্রবণতা কিছুটা ভাঙছে বলে মনে করছে সচেতন মহল। দলীয় প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং নিরাপত্তা ও সংখ্যালঘু স্বার্থরক্ষার প্রতিশ্রুতি- এসব বিষয় ভোটের সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ভোটারদের কাছে ছুটছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল হোসেন
এদিকে, নির্বাচনের মাঠে থাকা প্রার্থীরা এখন আর বড় সমাবেশে সীমাবদ্ধ নেই। হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বাড়ি-বাড়ি যোগাযোগ, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আশ্বাস দিয়ে ভোট টানার চেষ্টা করছেন তারা। একাধিক প্রার্থীর পক্ষ থেকেই ধর্মীয় সম্প্রীতি, মন্দির ও শ্মশান উন্নয়ন, জমি ও নিরাপত্তা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হচ্ছে।
সুশীল কর্মকার নামে এক ভোটার জানান, তাদের কাছে এবার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা, শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা বেশি গুরুত্ব পাবে।
দেব ঘোষ নামে অপর এক ভোটার জানান, যিনি পাশে থাকবেন, সুখ-দুঃখে কথা শুনবেন, নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখবেন ভোট তিনি পাবেন।
তনয় বিশ্বাস জানান, নির্বাচন আসলে প্রার্থীরা আসতে শুরু করেন। তারা নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেন। এবারো এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ভোট খুব বুঝে তারপর দিতে হবে। যিনি নির্বাচিত হোক না কেন, সাম্প্রদাকি সম্প্রীতি যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে তাকে নজর রাখতে হবে।
মির্জাপুরের একটি স্কুলের শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। টাঙ্গাইল-৭ আসনে হিন্দুদের ভোট গেম চেঞ্জার হতে পারে। তারা একযোগে যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তার বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।”
মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে ঘিরে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার সুরাইয়া ইয়াসমিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সবগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন।