সারা বাংলা

কুষ্টিয়ায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি-জামায়াত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়ার চারটি সংসদীয় আসনে শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ আসনে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও কয়েকটি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপির প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই তিনি গণসংযোগ করেছেন এবং মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এই আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী দৌলতপুর জামায়াতের উপজেলা আমীর মাওলানা বেলাল উদ্দিন।

এ আসনে ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৯ হাজার ১৬৬ জন। স্বাধীনতার পর এ আসনে পর্যায়ক্রমে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির আধিপত্য ও সংসদে প্রতিনিধিত্ব ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ৮৮ জন। বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্দুল গফুর। দুই দলের শক্ত অবস্থানের কারণে এ আসনটি এবার অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার। এ আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে।

১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৪৬ জন। ইসলামিক বক্তা মুফতি আমির হামজার জামায়াত থেকে প্রার্থী হওয়া নির্বাচনি লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা। এক সময় এই আসন বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল।

কুষ্টিয়া-৪ আসন (কুমারখালী-খোকসা) উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৮ হাজার ৭০৪ জন। এককালে এটি ছিল বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী তিনবারের এমপি ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। আসন্ন নির্বাচনে এখানেও বিএনপি এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন কুমারখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আফজাল হোসেন।