বগুড়ায় ভোটের টাকা লেনদেনের অভিযোগে জামায়াত কর্মীদের আটক করে রাখার পর বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। দুদলের এই সংঘাতে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ দুজন আহত হয়েছেন।
সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার পারশুন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, ওই সময় তারা গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে বেশ কিছু লোকের সমাগম দেখতে পেয়ে সেখানে যান। তাদের দাবি, সেখানে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াতের কিছু নেতাকর্মী ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। এ সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ দুজনকে আটক করে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। এর মধ্যে জামায়াতের লোকজন সেখানে হামলা চালায়। তারা বিএনপি নেতা মাসুদ রানা ও তার ভাইকে মারধর করে এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর চালিয়ে আটক দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় মাসুদ রানার বাড়িসহ তিনটি বাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। হামলায় মাসুদ রানা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন।
এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় উপজেলার ভুসকুর এলাকায় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা আসাদুল্লাহ আল গালিবের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। গালিব বলেন, তিনি জামায়াতের প্রার্থী পারভেজের নির্বাচনি কাজ শেষে মোটরসাইকেল যোগে বাসায় ফিরছিলেন। ওই সময় বিএনপির মিছিল যাচ্ছিল। এ সময় মিছিল থেকে তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করা হয়। গালিব বলেন, হামলাকারীরা তাকে এর আগেও হুমকি দিয়েছিল- ১২ তারিখের পর দেখে নেয়ার।
বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ দাবি করেন, তাদের পক্ষ থেকে কোনো হামলা হয়নি। বরং বিএনপির লোকজন তাদের কর্মী গালিবকে মারধর করে আহত করেছে এবং আরো দুই কর্মীকে মিথ্যা অভিযোগে আটক রেখে নির্যাতন চালিয়েছে।
বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা পুলিশের মিডিয়া মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো পক্ষই মামলা করেনি। তবে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।