ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোটের মাঠে এখন ককটেল আতঙ্ক বিরাজ করছে।
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ককটেল তৈরির কাজে ব্যবহৃত ১৩ কেজি গানপাউডার এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় ১৮টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। জনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকে শুরু করে আম বাগান, পরিত্যক্ত বাড়ি কিংবা ফসলি জমি থেকে এসব বিস্ফোরক সামগ্রী উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও থানা চত্বরে ককটেল হামলার ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ২৮ ডিসেম্বর শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের জিলানি মোড় সংলগ্ন একটি আম বাগান থেকে ২ কেজি ১৫০ গ্রাম গানপাউডার উদ্ধার করে র্যাব। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নিমগাছি-সরকারপাড়া এলাকার একটি আম বাগান থেকে ৫টি ককটেল এবং এর মাত্র তিন দিন পর রহনপুর পৌর এলাকার পুনর্ভবা নদীর পাড়ে দুটি শপিং ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে আরো ৮টি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। ৩০ জানুয়ারি শিবগঞ্জের ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে ৩ কেজি ৩০৬ গ্রাম গানপাউডারসহ ককটেল তৈরির বিপুল সামগ্রী জব্দ করে র্যাব-৫।
গত ২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৫টি ককটেলসহ ১ কেজি গানপাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গোমস্তাপুর থানা চত্বর এবং স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশের নাকের ডগায় খোদ থানা চত্বরে এমন হামলায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
গত রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শিবগঞ্জের পারঘোড়াপাখিয়া এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ৬ কেজি ২৭০ গ্রাম গানপাউডার এবং ৩১টি জর্দার কৌটাসহ বিপুল পরিমাণ কাঁচের গুঁড়া ও পাথর জব্দ করে র্যাব। তারা জানায়, উদ্ধারকৃত এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দিয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বড় ধরনের কোনো নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। সবশেষ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে শিবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনগর-ময়েজ মোড় এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনায় দুর্বৃত্তরা।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “ভোটের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে-সঙ্গে যেভাবে গানপাউডার, ককটেল উদ্ধার হচ্ছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
শিবগঞ্জের বাসিন্দা ওমর ফারুক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সরিষা ক্ষেত, আম বাগান থেকে বিস্ফোরক পাওয়া যাচ্ছে, এমনকি থানাতেও ককটেল হামলা হচ্ছে। এমন খবর গণমাধ্যমে দেখে মনে ভয় সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করলেও একের পর এক ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ভোটারদের মনে নিরাপত্তা আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে যদি এই বিস্ফোরক সরবরাহ ও নাশকতার পরিকল্পনা বন্ধ না করা যায়, তাহলে ভোটের দিন সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ভয় দেখানোর জন্য থানা চত্বরে ককটেল ফাটিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এসব নিয়ে ভোটারদের আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। ভোটের মাঠে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পুলিশের এই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।