সারা বাংলা

‘দুনিয়া দিলেও ছেলের অভাব পূরণ হবে না’

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিহত দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দীপুর বাবা রবি চন্দ্র দাস এবং এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, “৫০ লাখ টাকা কেন, সারা দুনিয়ার টাকা এনে দিলেও আমার ছেলের অভাব পূরণ হবে না। হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখে যেতে চাই। হত্যাকারীদের শাস্তি দেখে, এমন ঘটনা যেন আর কেউ ঘটানোর সাহস না পায়। আর কোনো বাবা-মায়ের কোল যেন খালি না হয়।”

রবি চন্দ্র দাস বলেন, “দীপু পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিল। তাকে এভাবে মারা হবে কোনদিন ভাবিনি। আমার ছেলের কি দোষ ছিল? ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করলে দেশে তো আইন ছিল। সেই আইনে বিচার হতো।”

তিনি বলেন, “ছেলেকে এভাবে হত্যার পর দীপুর মা ও তার স্ত্রী একেবারে ভেঙে পড়েছে। তারা দুজনই খুব অসুস্থ। সারাদিন কান্নাকাটি করে। কেউ ঘুমাতে পারে না। তারা নিয়মিত ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার পর ঘুমায়। আবার দুই-তিন ঘণ্টা পর জেগে ওঠে। এভাবেই চলছে আমাদের সংসার।”

এর আগে মঙ্গলবার সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দীপুর পরিবারকে আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে বাড়ি নির্মাণের জন্য ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে। পাশাপাশি নগদ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দীপু দাসের বাবা ও স্ত্রীকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং তার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ৫ লাখ টাকার একটি এফডিআর করা হবে।

আর্থিক সহায়তার বিষয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার বলেন, “এ সহায়তা তারাকান্দার ইউএনওর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হবে।”

তিনি বলেন, “দীপু চন্দ্র দাসের হত্যাকাণ্ড একটি নৃশংস অপরাধ, যার কোনো অজুহাত নেই এবং আমাদের সমাজে এর কোনো স্থান নেই। তার পরিবারকে সহায়তার যে প্রচেষ্টা সরকার করেছে তা একটি জীবনের তুলনায় কিছুই নয়। রাষ্ট্র নিশ্চয়ই সুবিচার নিশ্চিত করবে।”

শিক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, “সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা ছড়িয়ে যেভাবে দীপু দাসকে হত্যা করা হয়েছে, তা পুরো জাতির জন্য লজ্জার। ন্যায়বিচারই কেবল এই লজ্জা থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।”

তিনি আরো বলেন, “এই ঘটনায় যারা দায়ী, তাদের সবাইকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে।”

তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, “মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে ফোন করে দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র নিয়েছে। তবে, ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে আমাকে এখনো অফিসিয়ালি জানানো হয়নি।”

ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরো সন্দেহভাজন আসামি আছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

দীপু চন্দ্র দাস জেলার তারাকান্দা উপজেলার মোকামিয়া কান্দা গ্রামের রবি চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি ভালুকার জামিরদিয়া পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানিতে কাজ করতেন।

গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ি এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৫০ জনকে আসামি করে ভালুকা থানায় মামলা করেছেন।