সারা বাংলা

ভোটপূর্ব রাতে রেজাল্ট শিটে সই নিলেন প্রিজাইডিং অফিসার

বরগুনা পৌরসভার একটি ভোটকেন্দ্রে ভোটপূর্ব গভীর রাতে রেজাল্ট শিটে প্রার্থীর এজেন্টদের স্বাক্ষর নিয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। এসময় বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রার্থীর এজেন্টরা প্রতিবাদ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট রেজাল্ট শিটটি ছিঁড়ে ফেলেন ওই কর্মকর্তা। 

অভিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসার গুদিঘাটা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ইলিয়াস হোসাইন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরগুনা পৌর শহরের কড়ইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই জালিয়াতি চেষ্টার ঘটনা ধরা পড়ে।

প্রার্থীদের এজেন্টরা অভিযোগ করে বলেন, অনেকগুলো কাগজে স্বাক্ষর করতে হবে বলে প্রিজাইডিং অফিসার তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন। কিন্তু পরে তারা বুঝতে পারে, সেটি ছিল রেজাল্ট শিট। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে কাগজটি ছিড়ে ফেলেন। 

এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থীর এজেন্টদের অভিযোগ, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত তাকে অপসারণ এবং তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।

অন্যান্য প্রার্থীর এজেন্টরা বলেন, বিএনপির কথামতো কাজ করেছেন প্রিজাইডিং অফিসার ইলিয়াস। বিগত দিনের নির্বাচনে বিভিন্ন সময়ে তিনি আওয়ামী লীগকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসছেন ঘুষের বিনিময়ে। এবারও সেটাই করেছেন। 

কেন্দ্র এজেন্টরা আরো বলেন, ঘটনার পর ম্যাজিস্ট্রেটের দেখা না পাওয়া ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসার মাওলানা ইলিয়াস বলেন, “আমি কাজ এগিয়ে রাখতে স্বাক্ষর নিয়েছিলাম। আর কোনো উদ্দেশ্যে নেই।” 

বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মাদ সিফাত বিন সাদেক ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। 

তিনি বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার অনিয়ম-দুর্নীতি করে থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হবে।