চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার মোট ১ হাজার ৯৬৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
সকাল ৭টার দিকে নগরীর একাধিক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ভোর থেকেই লাইনে দাড়িয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন ভোটাররা। বয়স্ক ভোটারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ভোট দিতে আসা তরুণদেরও দীর্ঘ সারিতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জেলার সার্বিক ভোটের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম নগরের নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা মিসবাহ উদ্দিন নয়ন জানান, প্রথমবারের মতো দেশের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি। ভোরের দিকে লাইনে দাঁড়িয়েছি, এখন ভোট দেওয়ার অপেক্ষা। ভোটের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আছে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখতে পাচ্ছি না।”
একই কেন্দ্রের ৫৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী শাহেদুুর রহমান বলেন, “অনেক বছর পর ভোট দিতে এসে অনেক ভালো লাগছে। চারদিকে উৎসবের আমেজ। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে হাসিমুখে বাসায় ফিরবো।”
বদ্দারহাট এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র
ভোটকেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “পুরো চট্টগ্রাম জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মাঠে রয়েছে ৪০ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং প্রায় ১১৫ জন জুডিশিয়াল ও অ্যাক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। ম্যাজিট্রেটরা নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় টহলে রয়েছেন। প্রত্যেক ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করছে এবং তারা সার্বক্ষণিক টহল ও মুভমেন্টের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।”
তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচনের লক্ষ্য কেবল ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রতিটি ভোটার যেন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রকাশ করতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন- সেই নিশ্চয়তা প্রদানই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।”