ভোট দিতে এসে ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবি করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক নিহত শরিফ ওসমান বিন হাদির বোন মাসুমা হাদি।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝালকাঠির সরকারি নলছিটি মার্চেন্টস মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হন মাসুমা। এ সময় তার হাতে ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবিতে লেখা একটি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের আগে ও পরে প্ল্যাকার্ডটি উপস্থিত ভোটার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্ল্যাকার্ডে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
শরিফ ওসমান হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও সেই অভ্যুত্থান দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির লক্ষ্য সকল প্রকার আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন হাদি। গত ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।
মাসুমা হাদি বলেন, ‘‘আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার আজও হয়নি। আমরা ন্যায়বিচার চাই। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘১৭০০ শহীদ ও তিন হাজারের বেশি মানুষ অন্ধ হওয়ার বিনিময়ে আজকের এই নির্বাচন হয়েছে। জুলাইয়ের পর আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। যে সরকারই আসুক, আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার করতেই হবে।’’
তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া যেমন দায়িত্ব, তেমনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাও সাংবিধানিক অধিকার।
তার এই প্রতিবাদ ঘিরে ভোটকেন্দ্রে কিছু সময়ের জন্য কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হলেও সার্বিক পরিবেশ শান্ত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখেন। ভোটাররাও শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
হাদি হত্যা মামলা তদন্ত করে গত ৬ জানুয়ারি ১৭ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তবে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি ডিবির দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের বিষয়ে আদালতে নারাজি আবেদন দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন এবং ২০ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে কয়েক দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে।