রাজশাহীর ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। দুটিতে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত আড়াইটার দিকে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে ১ হাজার ৮৮৪ ভোট বেশি পেয়ে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ধানের শীষকে পরাজিত করেছেন।
মুজিবুর রহমান ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির শরীফ উদ্দিন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯০২ ভোট পান।
এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৬০টি। ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০। ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪। বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪৩ ৮৫৮টি। ভোটের হার ৭৫ দশমিক ০৬ শতাংশ।
রাজশাহী-২ (সদর) আসনে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু। তিনি ২৮ হাজার ভোটে পরাজিত করেন জামায়াতের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে।
মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। এর আগে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ফলাফলে দেখা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৬ ভোট পেয়েছেন মিজানুর রহমান মিনু। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭০ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৮ হাজার ১৭৬।
এই আসনে ভোট পড়েছে ৬৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬। ভোট বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৪৭৪টি। বৈধ ভোট ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৪২ ভোট।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে ৩৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
নির্বাচনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট পেয়েছেন শফিকুল হক মিলন। জামায়াতের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট।
১৩২টি কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৮। ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭। ভোট বাতিল হয়েছে ৮ হাজার ১৪৬ ভোট। বৈধ ভোট ৩ লাখ ১৯ হাজার ২৬১ ভোট।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা নায়েবে আমির ডা. আব্দুল বারী। তিনি ৫ হাজার ৭৬৫ ভোটে বিএনপির প্রার্থী ও উপজেলা আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমানকে পরাজিত করেন।
ফলাফলে দেখা গেছে, ১২৩টি কেন্দ্রে আব্দুল বারী পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ২২৬ ভোট। বিএনপি প্রার্থী ডিএম জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ ভোট। এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৭৪ ভোট। বৈধ ভোট ২ লাখ ২৭ হাজার ১১৬টি। ভোটের হার ৭২ দশমিক ২৭ শতাংশ।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪২৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মনজুর রহমান দাড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৪৩ ভোট। ব্যবধান ৭৯ হাজার ৯৮২ ভোট।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬। ভোট বাতিল হয়েছে ৫ হাজার ৬৩৮টি। বৈধ ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৩৭ হাজার ৭৯৮টি। ভোটের শতাংশ ৬৮ দশমিক ৯৩।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জয়ী হয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ধানের শীষের প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৭২ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতের ইসলামীর রাজশাহী জেলার সহকারী সেক্রেটারি নাজমুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯৬৫ ভোট। আবু সাঈদ চাঁদ ৫৫ হাজার ৬৭৭ ভোটে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন।
এই আসনে ভোটকেন্দ্র ছিল ১২০টি। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৯ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩০২ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৭ হাজার ১০৭টি। বৈধ ভোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ১৯৫টি। ৭০ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে।