সারা বাংলা

রাজবাড়ীর দুটি আসনেই জয়ী হয়েছেন ধানের শীষের প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ীর দুটি আসনেই বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা সুলতানা আক্তার।

রাজবাড়ী-১ (সদর-গোয়ালন্দ) আসনে পোস্টাল ভোট গণনাকেন্দ্রসহ মোট ১৫৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩০ হাজার ২১৫ জন। তবে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৭১ হাজার ৯০২ জন ভোটার। সেখান থেকে বাতিল হয় ৫ হাজার ৫৯৬ ভোট।

এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক এই সভাপতি এবার নিয়ে রাজবাড়ী-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন। তিনি ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়াও, তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার তিনবারের মেয়র ছিলেন।

আসটিতে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. নূরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৯২ ভোট। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী খোন্দকার হাবিবুর রহমান বাচ্চু লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮৬ ভোট ও জাকের পার্টি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস গোলাপ ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৭ ভোট।

রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী, বালিয়াকান্দি) আসনে পোস্টাল ভোট গণনাকেন্দ্রসহ মোট ১৯৯টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৩ জন। এদের মধ্যে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এসব ভোটের মধ্যে থেকে বাতিল হয় ৯ হাজার ৩০৯ ভোট।

আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ৩৭ হাজার ২৫৪ ভোট পেয়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. হারুন-অর-রশিদ বিজয়ী হয়েছেন। রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন-অর-রশিদের এটিই প্রথম নির্বাচন। প্রথম নির্বাচনেই বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করলেন তিনি।

এ আসনে মো. হারুন-অর-রশিদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপি মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী জামিল হিজাযী শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৬৭ হাজার ২৯৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. নাসিরুল হক সাবু কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৩৩৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী মো: আব্দুল মালেক হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৮ হাজার ৫০৩ ভোট, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী কাজী মিনহাজুল আলম দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৩২১ ভোট, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. আব্দুল মালেক মন্ডল ছড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৬৬ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. শফিউল আজম খান লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫২ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদ শেখ ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩৩ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল মোল্লা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২১৯ ভোট।