বরিশালের তিন উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নারী ও জাসদ নেতাসহ তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন। এসময় ভাংচুর করা হয়েছে বসতঘর। শুক্রবার দুপুরে ও সন্ধ্যায় আগৈলঝাড়া, গৌরনদী ও বানারীপাড়ায় এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার জাকির মৃধা নামের ওই বিএনপি কর্মী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহানের পক্ষে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন রত্নপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আলমগীর ও তার সমর্থকরা। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে জাকির চাউকাঠী বাজারে গেলে আলমগীরের নেতৃত্বে ছাত্রদল কর্মী নোমান, নাদিম ও সুজনসহ তাদের দলবল বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন বলেন, “ফুটবলের পক্ষে কাজ করার বিষয় নিয়ে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সাথে জাকির মৃধার বাগবিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।”
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাসুদ খাঁন বলেন, “নির্বাচনের পর কোনো সহিংসতা মেনে নেওয়া হবে না। হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ফুটবল প্রতীকের এজেন্ট হওয়ায় গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা ঝুমুর বেগমকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানের শীষে নির্বাচিত জহির উদ্দীন স্বপনের সমর্থক মিরাজ হাওলাদারের নের্তৃত্বে প্রথম দফায় তার উপর হামলা করা হয়। শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় দফায় ঝুমুর বেগমের বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
বানারীপাড়ায় জামায়াত ট্যাগ দিয়ে বাংলাদেশ জাসদের বানারীপাড়া উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বিধান করিবারকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বাইশারী বাজারে তার বাড়িতে গিয়ে এই হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানায়, বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারন সম্পাদক মাসুদুর রহমান ডালিম ও সহ-সভাপতি রফিক মল্লিকের নের্তৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, “বরিশালের ছয়টি আসনে বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে। ব্যক্তিগত স্বার্থে কাউকে মারধর বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। এসব ব্যক্তিদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে। দলীয় প্রধান তারেক রহমান এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।”