চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘ককটেল তৈরির সময়’ বিস্ফোরণে ঘটনাস্থল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। পুরো এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে প্রবেশে সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সহায়তায় পরিস্থিতি পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিস্ফোরণে দুজন নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার। এরপর শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার গৌতম গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় এখানে বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক আলামত দেখে এটি ককটেল বিস্ফোরণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
তিনি জানান, দূর থেকে দুটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া এই ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ইতিমধ্যে আহতদের নাম সংগ্রহ করেছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় মরদেহগুলো বিকৃত হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, “আমরা এখনো লাশের কাছে যেতে পারছি না কারণ এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। র্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আসার পর তারা পুরো এলাকা পরীক্ষা করবেন। তারা সবুজ সংকেত দিলে আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পরিচয় শনাক্ত করার কাজ শুরু করব। পরিচয় নিশ্চিত হতে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহায়তা নেয়া হবে।”
বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বলেন, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে সেখানে হয়তো ককটেল মজুত করা ছিল অথবা তারা ককটেল তৈরি করছিল। এমন সময় কোনোভাবে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।” তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষেই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার পর থেকে বাড়ির মালিক মো. আবুল কালাম (৪৫) পলাতক থাকায় তাকে নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলে এই ঘটনার নেপথ্যে আর কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক তৈরি করা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
এর আগে শনিবার ভোর ৫টার দিকে চরবাগডাঙ্গা ইউপির ফাটাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। আহত হন তিনজন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।