নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী বিরোধের জের ধরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা মো. হাসিনুর রহমান ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আসাব সরকারও রয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের ধানাইদহ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেলে ধানাইদহ বাজারে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জামায়াত কর্মী সাব্বির হোসেনকে মারধর করেন বিএনপির কয়েকজন কর্মী। এর জের ধরে শনিবার সকালে বিএনপি নেতা আসাব সরকারকে মারধর করেন জামায়াতের কর্মীরা। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতা–কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন নগর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাসিনুর রহমান। স্থানীয়রা তাকে প্রথমে বনপাড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপি নেতা আসাব সরকারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নাটোরের পুলিশ সুপার মো. আব্দুল ওয়াহাব জানিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অবস্থান করছে। এ ঘটনায় তিনজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।