ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা–কাউনিয়া) আসনে ঘোষিত ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। তার অভিযোগ, ভোট গণনার সময় কারচুপির মাধ্যমে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তার সমর্থকরা রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক এবং রংপুর-হারাগাছ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী কুড়িগ্রাম-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এমদাদুল হক ভরসা। অবরোধকালে তার সমর্থকরা নির্বাচনে বিজয়ী এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন।
এ সময় এমদাদুল হক ভরসা বলেন, “ভোট গণনার নামে প্রশাসন ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে। আমাকে প্রাপ্ত ভোট থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। গতকাল জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর ভোট পুনর্গণনার আবেদন করেছি। আমার দাবি, ভোট পুনর্গণনা করা হোক।”
তিনি অভিযোগ করেন, গণনার সময় তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং সাড়ে ৮ হাজার ব্যালট বাতিল করা হয়েছে। ফলাফল মধ্যরাত পর্যন্ত আটকে রেখে ভোরে প্রকাশ করা হয়েছে। ভোট গ্রহণের দিন বিকেল ৩টার পরে শাপলা কলির প্রার্থী কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ পৌরসভাধীন কেন্দ্রগুলোতে মহরা দিয়ে মব সৃষ্টির অপচেষ্টা করেছিল। এর বড় প্রভাব পড়েছিল ভোটের মাঠে। ভোট গণনার সময় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এনসিপি নেতা আখতার তার পক্ষে ফল নিয়েছে।
মহাসড়ক অবরোধের কারণে উভয় পাশে কয়েক শত যানবাহন আটকা পড়ে। দুপুর পৌনে ২টার দিকে সেখানে যান বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। এমদাদুল হক ভরসাকে সান্ত্বনা দিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।
এরপর দুপুর সোয়া ২টার দিকে ঘটনাস্থলে যান কাউনিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, “ভোট পুনর্গণনার জন্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে তার আবেদন নির্বাচন কমিশনে ফরোয়ার্ড করা হয়েছে। সে বিষয়টি প্রার্থীকে জানানো হয়েছে।”
ভোট পুনর্গণনার দাবিতে পীরগাছায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কদমতলা এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা। তিনি ভোট পুনর্গণনার দাবিসহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অপসারণের দাবি জানান।
সকাল ১১টার দিকে হারাগাছ মহাসড়কের সাহেবগঞ্জ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ফেলে সড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা। হারাগাছ পৌর এলাকাতেও বিক্ষোভ করা হয়।
হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান বলেছেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. এনামুল আহসান রংপুর-৪ আসনের বেসরকারি ফল ঘোষণা করেন। এতে শাপলা কলি প্রতীকে আখতার হোসেন পান ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এমদাদুল হক ভরসা ধানের শীষ প্রতীকে পান ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৬৪ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান লাঙ্গল প্রতীকে পান ৩৩ হাজার ৬৬৪ ভোট।
একই দাবিতে রংপুর-৬ আসনের পরাজিত প্রার্থী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম আবেদন করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর। গতকাল থেকেই ভোট পুনর্গণনার দাবিতে পীরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ।
শনিবার বিকেলে সাইফুলের সমর্থকরা পীরগঞ্জ উপজেলা থেকে এসে রংপুর মহানগরীতে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। ওই আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী নুরুল ইসলাম।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের ছয়টি আসনে জাতীয় পার্টির দুর্গে হানা দিয়ে বিএনপিকে পরাজিত করে বিজয় লাভ করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।