সারা বাংলা

বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক নিহত, আহত ৯০

বাগেরহাটে নির্বাচনের পরের দুই দিনে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৯০ জন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ভোটের আগেই বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলায় বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। নির্বাচনের পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। নির্বাচন-পরবর্তী দুই দিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি সংঘাতে অন্তত ৯০ জন আহত হয়েছেন। সদর উপজেলার মান্দ্রা গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের ১৪টি বসতবাড়ি এবং শরণখোলা-মোরেলগঞ্জে ছয়টি বসতবাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব ঘটনায় শুক্রবার ২ জন এবং শনিবার ৬ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শনিবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের আরপাড়া এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য পপলু সরদার, সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগর, জামায়াত নেতা মুজাহিদসহ কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভোটের আগের রাতেও এ এলাকায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার পারনওয়া পাড়া ও কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ওসমান সরদার নামের এক যুবক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

নিহত ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়নওয়া পাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে। বছর পাঁচেক আগে বিয়ে করেন ওসমান। তার চার বছরের এক পুত্র সন্তান আছে।

সংঘর্ষে আহত একই গ্রামের ইমরান সরদার বলেছেন, “শুক্রবার বিকেলে পশ্চিম পারনওয়া পাড়ার বিএনপি নেতা শহিদুলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন দা ও লাঠি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারা ঘোড়ায় ভোট দিয়েছে, তাদের খুঁজতে থাকেন। তারা যাকেই সামনে পান, তাকেই মারধর করেন। একপর্যায়ে গ্রামবাসী তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে আমি ও ওসমানসহ অনেকে আহত হই।”

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেছেন, “পাড়নওয়া পাড়া ও ছিটাবাড়ি এলাকায় সংঘর্ষে আহত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের পুলিশ শনাক্ত করেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।”

বাগেহাটের পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী বলেছেন, “বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ আসছে। সংঘর্ষ-ভাঙচুরসহ কিছু বিশৃঙ্খলা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত আছে। নিজের কর্মীদের শান্ত রাখার জন্য সকল প্রার্থীর সাথে আমরা কথা বলেছি। অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই। প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”