ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল বাশার আকন্দের গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিএনপির পরাজিত প্রার্থীর নেতাকর্মীরা। গাড়ি ভাঙচুরের পর তাকে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফুলপুর পৌর শহরের বালিয়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে তিনি পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, শনিবার বিকালে আবুল বাশার আকন্দ বালিয়া রোডে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাধীন মিয়ার তুলার গুদাম পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেসময় বিএনপির কিছু বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মী তাকে দেখতে পেয়ে তার গাড়িতে হামলা চালায় এবং তাকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আবুল বাশার আকন্দের সমর্থকরা ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়ক অবরোধ করলে, তাৎক্ষণিক পরাজিত প্রার্থীর নেতাকর্মীরা অবরোধকারীদের উপর হামলা চালিয়ে দ্বিতীয় দফায় আবুল বাশার আকন্দের গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে গাড়ি চালক আরমানসহ দুজন আহত হন। পুলিশের চেষ্টায় সন্ধ্যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে পুলিশ ভাঙচুর করা গাড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
ধানের শীষের প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারের বিপক্ষের কাজ করার অভিযোগ এনে পরাজয়ের জন্য দায়ী করে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি আবুল বাশার আকন্দ ও মহানগর যুবদল সাধারণ সম্পাদক জোবায়েদ হোসেন শাকিলসহ অনেকের বিরুদ্ধে ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ ও পাল্টা লেখালেখি চলে। অনেকেই বিএনপি প্রার্থী পরাজয়ের জন্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেন।
বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকাদার বলেন, “আবুল বাশার কোন দল করে আমার জানা নেই। সে যদি বিএনপি নেতা হতেন, তাহলে অবশ্যই আমি পাশে পেতাম। কিন্তু তাকে দেখা যায়নি। তবে, তার গাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে আমার জানা নেই।”
হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাবেক এমপি আবুল বাশার আকন্দ বলেন, “আমি একটি আগুনের ঘটনা পরিদর্শনে এসেছিলাম। স্থানীয় বিএনপি নেতা মিঠুনের নেতৃত্বে এরশাদুলসহ তিনজন মিলে আমার গাড়ি ভাঙচুর করে। আমার ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
ফুলপুর থানার ওসি (তদন্ত) ইয়ামিন রাসেল জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবুল বাশার আকন্দ ১৯৯৬ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিপক্ষে কাজ করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদসহ দল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
পরে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতিসহ দলের বিভিন্ন পদের দায়িত্ব পালন করেন।গত সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হন।