সারা বাংলা

চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে তরুণের পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরে মাছ চুরি অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইক (৩০) নামে এক তরুণকে গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঘের মালিক ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ-সংক্রান্ত দুটি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

সেলিম পাইক শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকার মৃত মতলব আলী পাইকের ছেলে। বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

অভিযুক্ত শাহিন মাদবর (৩৮) শরীয়তপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পালং এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঘের ব্যবসায়ী এবং শরীয়তপুর জেলা আন্তঃপরিবহন মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক।

৪৩ সেকেন্ডের একটি ফুটেজে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি সেলিম পাইককে দুই হাত ধরে মাছের ঘেরের মাঝখান থেকে পারে নিয়ে আসেন। পরে এক ব্যক্তি হাত ধরে রাখেন এবং দুই ব্যক্তি মিলে গাছের ডাল দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটাচ্ছেন। এ সময় সেলিম ‘বাবারে, বাবারে’ বলে চিৎকার করছিলেন।

১৮ সেকেন্ডের আরেক ফুটেজে দেখা যায়, সেলিম পাইকের হাত রশি দিয়ে বাধা, ঘের মালিক শাহিন মাদবর মোটা একটি শুকনা ডাল দিয়ে সেলিমকে দুই পায়ে সজোরে পেটাচ্ছেন। আর তিন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন।

স্থানীয়রা জানান, চুরির অপবাদ দিয়ে সেলিম পাইককে পিটিয়ে ডামুড্যার ইকুরি এলাকায় মাটিতে ফেলে রাখা হয়। অবস্থা খারাপ দেখে অভিযুক্ত শাহীন ও তার লোকজন সেলিমকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহত সেলিম পাইক বলেন, “আমি মাছ চুরি করিনি। আমাকে চুরির অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।”

ইকরি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, “আমি ফজরের নামাজ পরে বাড়িতে যাচ্ছিলাম তখন দেখি, এক ব্যক্তিকে পুকুর থেকে ধরে এনে কয়েকজন লোক পেটাচ্ছেন। পরে বাড়িতে চলে যাই। বাড়ি থেকে ফিরে এসেও দেখি ওই একই ব্যক্তিকে পেটানো হচ্ছে।”

অভিযোগের বিষয়ে শাহিন মাদবর বলেন, “চার মাস আগে আমার ঘেরের মাছ চুরি করে সেলিম। তখন আমি তাকেসহ সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করি। আমার ৬০ লাখ টাকার মাছ নিয়ে গেছে তারা।”

তিনি বলেন, “রবিবার ভোরে আবার পুকুরে মাছ চুরি করতে আসে সেলিমসহ ছয়জন। ঘেরের পাহারাদার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া দেওয়া হয়। পরে আমার লোকজন ধাওয়া দিলে বাকিরা পালিয়ে গেলেও ধরা পড়ে সেলিম।”

পেটানোর সত্যতা স্বীকার করে শাহিন মাদবর বলেন, “ঘের আমার আমি পেটাব না, কে পেটাবে!”

ডামুড্যা থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, “বিষয়টি শুনেছি। মাছ চোর সন্দেহে ঘটনাটি ঘটেছে। তদন্ত করার জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”