ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে সিরাজগঞ্জে দিনমজুর আব্দুল মোতালেব কাজী (৬৫) পুলিশের ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের মুজিবকেল্লা ভোট কেন্দ্রে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত মোতালেবকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ মোতালেব কাজী বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি শঙ্কামুক্ত হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ মোতালেব কাজী সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের বড়-কয়ড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়নের মুজিবকেল্লা ভোট কেন্দ্রে ভোট দিয়ে বাহিরে আসার সময় পুলিশের মিস ফায়ারিংয়ে মোতালেব কাজী দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার ইতোমধ্যে দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আবার হাঁটতে পারবেন কি-না সে বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ঘটনার তিন দিন পর জেলা প্রশাসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজ নেন। চিকিৎসা সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা ও গৃহনির্মাণে মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত কনস্টেবল ওহাব আলীর শটগান থেকে ছোড়া গুলি মোতাল কাজীর দুই পা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। ঘটনার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।
মোতালেব কাজীর স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, ‘‘ভোট দিতে গিয়ে তার সঙ্গে এমন ঘটনা হবে, কখনো ভাবিনি। তার উপার্জনে সংসার চলত। এখন সংসার কীভাবে চলবে, কী হবে আমাদের, সেই চিন্তায় রাত-দিন পার করছি।’’
সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাজরান রউফ বলেন, গুলির ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল ওহাব আলীকে পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও চলছে। তদন্তের পর নিশ্চিতভাবে বলা যাবে গুলির ঘটনাটি ভুলবশত, নাকি ইচ্ছাকৃত।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘‘স্থানীয়ভাবে জেনেছি, ওই দিন সকালে ভোট দিয়ে এসে মোতালেব কেন্দ্রের বাইরে পুলিশের পাশে বসে ছিলেন। ওই সময় পুলিশ সদস্য তার বন্দুক পরিষ্কার করছিলেন। হঠাৎ একটি বুলেট মোতালেবের দুই পা ভেদ করে বেরিয়ে যায়। এটি দায়িত্ব অবহেলা, নাকি অজ্ঞতা; জেলা পুলিশ থেকে তদন্ত চলছে।’’
তিনি আরো বলেন, গুলিবিদ্ধ মোতাবেলকে তিনি হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। তার পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবারের জন্য আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।