সারা বাংলা

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ইকরামসহ দুজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে সিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। এ সময় তার সহযোগী আবুল কামাল আজাদকেও আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের চান্দগাঁও র‌্যাব সিপিসি-৩ ক্যাম্পে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি টিম বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন আরেফিন নগর বায়েজিদ লিংক রোড এলাকার একটি বহুতল ভবনে অভিযান চালায়। এ সময় সন্ত্রাসী ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম (২৮) এবং তার সহযোগী আবুল কালাম আজাদকে (৬২) গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তাদের কাছ থেকে দুইটি বিদেশি পিস্তল ও ৫৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ইমতিয়াজ সুলতান ইকরাম চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম পরিচিত মুখ। সে আলোচিত সন্ত্রাসী সরোয়ার বাবলা, যিনি গত ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামি থানা এলাকায় চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগ চলাকালে গুলিতে নিহত হন এবং সন্ত্রাসী ম্যাক্সন ও ফিরোজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী।

র‌্যাব জানায়, দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যে পলাতক অবস্থায় থেকে ইমতিয়াজ সুলতান বায়েজিদ বোস্তামি, অক্সিজেন ও মুরাদপুর এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারসহ বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত। একসময় সে ‘রিচ কিডস’ নামে একটি আলোচিত কিশোর গ্যাং পরিচালনা করত এবং নিজের পরিচয় গোপন রেখে নিয়মিত দেশে আসা যাওয়া করত। গ্রেপ্তারকৃত আবুল কালাম আজাদ তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে চাঁদার টাকা উত্তোলন ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকের দায়িত্ব পালন করত।

লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান আরো জানান, সিডিএমএস পর্যালোচনায় গ্রেপ্তারকৃত ইমতিয়াজ সুলতান ইকরামের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন থানায় অস্ত্র, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নাশকতা ও চাঁদাবাজি সংক্রান্ত একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।