বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত রাজশাহী বিভাগ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান বগুড়া হওয়ায় এ বিভাগে দলটির কর্মী-সমর্থক সংখ্যাও বেশি। সেই বিভাগের প্রত্যাশা পূরণে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দিয়েছেন ২ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ৪ জন প্রতিমন্ত্রী।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের মধ্যে ২৮টিতে জিতে বিএনপি। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জিতে ১১টি আসনে। এর মধ্যে বগুড়া ও নাটোরের সব আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি। আর চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে জামায়াত জয়পুরহাটে ১টি, নওগাঁতে ১টি, রাজশাহীতে ২টি, পাবনাতে ৩টি ও সিরাজগঞ্জে ১টি আসনে জয়লাভ করে। বাকি সব আসনে জয় পায় বিএনপি প্রার্থীরা। এবার রাজশাহী বিভাগ থেকে ৫ জন প্রথমবারের মতো মন্ত্রীত্ব পেয়েছেন। তাদের মধ্যে ৪ জন প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন; যা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পূর্ণমন্ত্রী
সিরাজগঞ্জ-২ (সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ) আসন থেকে নির্বাচিত ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এবার তিনি একই দপ্তরে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি ৪০ হাজার ৪৩ ভোটের ব্যবধানে জামায়াতের প্রার্থী জাহিদুল ইসলামকে পরাজিত করেন।
রাজশাহী-২ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতা এর আগে ২ বার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। মেয়র থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জামায়াত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে ২৮ হাজার ১৭৬ ভোটে হারান।
প্রতিমন্ত্রী
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসন থেকে প্রথমবার নির্বাচিত ড. এম এ মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি এনসিপি প্রার্থী সাইফ মোস্তাফিজকে পরাজিত করেন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান অর্ধলাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি পান ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৪ ভোট, আর জামায়াত প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামান পান ৯৩ হাজার ৫৪৮ ভোট।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাজশাহী বিভাগের একমাত্র নারী ও সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী হিসেবে তিনি আলোচনায়। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আসনটি পুনরুদ্ধার করেন তিনি। পুতুল পান ১ লাখ ২ হাজার ৪১৯ ভোট; তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ পান ৮৯ হাজার ৪১৯ ভোট।
দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবন শেষে রাজনীতিতে এসে জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর) আসনে প্রথম নির্বাচনি লড়াইয়েই জয় পান মুহাম্মদ আবদুল বারী। ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। তিনি পান ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী এসএম রাশেদুল আলম পান ৯২ হাজার ৫১৭ ভোট।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত বলেন, “রাজশাহী বিভাগ থেকে দায়িত্ব পাওয়া এই ৬ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর কাছে মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তারা যেন অবহেলিত রাজশাহী বিভাগের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখেন—এটাই আমাদের কামনা।”