পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ৫ হাজার ৩৩৬ মেট্রিক টন বিভিন্ন ডালজাতীয় শস্য আমদানির অনুমতি (আইপি) দেওয়া হয়েছে। বিপুল আমদানির খবরে স্থানীয় বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের আশা, রমজানের শুরুতেই এসব পণ্য বাজারে পুরোপুরি সরবরাহ হলে ডাল ও ছোলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
সোনা মসজিদ স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার ৩৩৬ মেট্রিক টন ডালের আইপি অনুমোদনের বিপরীতে ইতোমধ্যে ২ হাজার ১১৮.৯৯ মেট্রিক টন পণ্য বন্দরে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা খেসারি ডালের ২ হাজার ৩০ মেট্রিক টন আইপি অনুমোদনের বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২১৪ মেট্রিক টন পণ্য বন্দরে প্রবেশ করেছে। এছাড়া ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল আমদানির অনুমোদনের বিপরীতে ৬৩৫.৯৯ মেট্রিক টন দেশে ঢুকেছে। রমজানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছোলার জন্য ১ হাজার ৫২৬ মেট্রিক টনের আইপি অনুমোদন থাকলেও এখন পর্যন্ত ১২০ মেট্রিক টন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নতুন কোনো আইপি না থাকলেও পূর্বের অনুমোদনের বিপরীতে ১৪৯ মেট্রিক টন মটর ডাল এবং আগে অনুমতি পাওয়া ২০০ মেট্রিক টন মাষকলাই আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আমদানিকারক আজিজুর রহমান বলেন, “প্রতিবছর রমজানে ডাল ও ছোলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে এবার আগাম বিপুল পরিমাণ আমদানির অনুমতি পাওয়ায় বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতির শঙ্কা নেই।”
আরেক আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমদানিকৃত বড় বড় চালানগুলো দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে শুরু করলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ডাল ও ছোলার দাম আগের চেয়ে অনেক কমে আসবে।”
সোনা মসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ বলেন, “রমজানকে সামনে রেখে আমদানিকৃত পণ্যের গুণগত মান ও পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাতে ভোক্তারা সঠিক সময়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্যগুলো হাতে পান। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রমজানে বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল থাকবে।”
বর্তমান বাজার দর সম্পর্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, “জেলায় বর্তমানে প্রতিকেজি মাষকলাইয়ের ডাল ১৫০-১৬০ টাকা, মানভেদে মসুর ডাল ৮০-১৫০ টাকা, মুগ ডাল ১৫০-১৬০ টাকা, ছোলা ১২০-১২৫ টাকা, মটর ১২০-১২৫ টাকা এবং খেসারি ডাল ৮০-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরবরাহ বাড়লে তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে।”