দেশের আকাশে পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে। সে হিসেবে দেশে রোজা শুরু হচ্ছে কাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। তবে, তার আগেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্থিরতা বিরাজ করছে। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে জেলায় অন্তত ১০টি পণ্যের দাম কেজিতে ৫ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
জেলা কৃষি বিপণন দপ্তরের গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারির বাজারদরের সঙ্গে ১৮ ফেব্রুয়ারির দর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পেয়েছে রাইজিংবিডি ডটকম। বিশেষ করে মাংস, মশলা ও সবজির বাজারে কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সাধারণ ক্রেতারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বাজারদর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে দেশি মুরগির। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ৫০০-৫১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া মুরগি আজ এক লাফে ৯০ টাকা বেড়ে ৫৯০-৬০০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১৮০-১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মশলার বাজারেও আগুনের আঁচ লেগেছে। সাত দিনের ব্যবধানে ৪০-৪৫ টাকা কেজির পেঁয়াজ আজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশী রসুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ১২০-১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি ১৪০-১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ তা বেড়ে ১৮০-২০০ টাকায় পৌঁছেছে।
শীতকালীন সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও খুচরা বাজারে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই। সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বেগুনের দাম; উচ্চ মানসম্পন্ন বেগুনের খুচরা মূল্য কেজিপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৭০-৭৫ টাকা হয়েছে। এছাড়া, ফুলকপি, শিম এবং খিরাইয়ের দামেও ৫-১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজারে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রোজা শুরু হওয়ার আগেই যদি এভাবে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়, তবে রোজার মাসে সাধারণ মানুষের পক্ষে ইফতার ও সেহরির আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নিউ মার্কেটের একজন ক্রেতা শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে দৈনন্দিন বাজেট মেলাতে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম বলেন, “রমজানের আগে প্রায় ১০ পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে, নিয়মিত বাজার তদারকি করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হচ্ছে।”
তিনি আরো বলেন, “বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিগগির মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। অন্যথায় রমজানে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।”