ভ্যাট ও ট্যাক্স খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
মঙ্গলবার বিকেলে (১৭ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি জানতে পেরেছেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিকরা।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের মনিরামপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকালে ভ্যাট ও ট্যাক্স খাতের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে কল্লোল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্তে উত্থাপিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
অভিযোগের গুরুত্ব ও প্রকৃতি বিবেচনায় জনস্বার্থে তাকে সরকারি চাকরি থেকে বিরত রাখা প্রয়োজন ও সমীচীন বলে মনে করছে নির্বাচন কমিশন।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৯(১) অনুযায়ী, কল্লোল বিশ্বাস উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দৌলতপুর, কুষ্টিয়া (প্রাক্তন কর্মস্থল: মনিরামপুর, যশোর)-কে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত থাকালীন তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা ও অন্যান্য আইনানুগ সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এর আগেও এক উপ-সচিব ও এক অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।
কল্লোল বিশ্বাস সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, “এ বিষয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করব না।”
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনিন্দ্য গুহ বলেছেন, “ভ্যাট ও ট্যাক্স খাতে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি শুনেছি। তবে, এ-সংক্রান্ত কোনো অফিসিয়াল চিঠি বা লিখিত আদেশ এখনো আমার দপ্তরে পৌঁছেনি।”