বাড়ি তাদের রাঙামাটি শহরের মন্ত্রীপাড়ায়। সেই মন্ত্রীপাড়ার সুবিমল দেওয়ান ছিলেন মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা। রাঙামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বাবার পথ অনুসরণ করে একসময় সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন ছেলে দীপেন দেওয়ান।
এর আগে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীপেন দেওয়ান। রাঙামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙামাটি সরকারি কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে রাজনীতিতেই থিতু হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন এবং সপ্তম বিসিএসে তিনি জুডিসিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগ দেন। কিন্তু, যার শিকড় রয়েছে রাজনীতিতে, তার কি আর সরকারি চাকরিতে মন বসে? তাই, ২০০৬ সালে চার দলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দল ত্যাগ করলে দলে যোগ্য নেতার প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিসিয়াল সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে যোগ দেন রাজনীতিতে। একের পর এক কালো মেঘের ছায়া এসে পড়ে তার রাজনৈতিক জীবনে। নানা চড়াই-উৎরাইয়ের পর অবশেষে দেখা পেলেন সেই সোনার হরিণ। প্রথমবার সংসদ সদস্য এবং প্রথমবারেই পূর্ণ মন্ত্রী। পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব।
২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচন করতে পারেননি দীপেন দেওয়ান। ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৬ সাল থেকে অদ্যবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্মবিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাঙামাটিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে তিনি নানা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুঃসময়ের দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান অবশেষে হয়েছেন জেলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন দীপেন দেওয়ান। একই দিন বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাঙামাটিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিভাবক হিসেবে তিনি নানা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দুঃসময়ের দলের হাল ছেড়ে না যাওয়া দীপেন দেওয়ান অবশেষে হয়েছেন জেলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী।