ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের মো. ইলিয়াছ মোল্যা। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিলের ১০ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে করেছিলেন পেঁয়াজ চাষ। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা খরচ করেছেন। জমি থেকে পেঁয়াজ উঠলে অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় এই ফসল বিক্রি করে ৪০ হাজার টাকা লাভের আশা করছিলেন তিনি। এই কৃষকের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা বিষ প্রয়োগ করে তার স্বপ্নের ফলস নষ্ট করে দেওয়ায় এখন দু’চোখ জুড়ে শুধুই অন্ধকার দেখছেন।
শুধু মো. ইলিয়াছ মোল্যা নয়, এমন দশা অন্তত ৩০ কৃষকের। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকে বিবাদী করে মুকসুদপুর থানায় অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাদের কিভাবে প্রণোদনা দেওয়া যায় সেটি দেখা হচ্ছে। পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বলছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, এবারের মৌসুমে মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিলের কয়েক’শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করেন তারা। এসব জমিতে পেঁয়াজের ফলনও হয় ভালো। কৃষকদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে রাতের বেলায় অন্তত ৫০ বিঘা জমিতে গোড়াপঁচা বিষ প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা। এরপরই জমিতে শুরু হয় পেঁয়াজের গোড়াপঁচা। প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে জমির পেঁয়াজ।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বশার মোল্যা বলেন, “ফরিদপুরে সালথা থেকে মুকসুদপুরে জমি নিয়ে আমরা পেঁয়াজ চাষ করেছি। কেউ দুই, কেউ তিন এবং কেউ পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। এই ফসল চাষ করতে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে। কয়েকদিন পরই পেঁয়াজ জমি থেকে তুলে বিক্রি করার কথা ছিল। কে বা কারা জমিতে বিষ দিয়ে পেঁয়াজের ক্ষতি করল।”
অপর কৃষক মো. জাহিদ ফরিকর বলেন, “আমরা ধার-দেনা করে পেঁয়াজ চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। কয়েকদিন পর পেঁয়াজ বাজারে বিক্রি করে লাভবান হওয়ার আশায় ছিলাম। দুর্বৃত্তরা আমাদের সেই আশা নষ্ট করে দিল। এখন কিভাবে দেনা পরিশোধ করব, আর কিভাবেই পরিবার নিয়ে চলব সেই চিন্তায় দিন কাটছে। সরকার সহায়তা না দিলে আমাদের সর্বশান্ত হতে হবে।”
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হান্নু শেখের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজের জমিসমূহ পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে জমিতে প্যারাকুয়েট নামক আগাছানাশক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে পেঁয়াজের গাছ শুকিয়ে মারা যাবে এবং পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাবে। এসব জমিতে কারবেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক দুইদিন পরপর স্প্রে, কুইক পটাশ স্প্রে ও গাছ একটু রিকভার করলে পিজিয়ার স্প্রে করলে কিছুটা ক্ষতি কম হবে।”
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাদের কিভাবে প্রণোদনা দেওয়া যায় সেটি চিন্তা করা হচ্ছে।”
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”