কুষ্টিয়াবাসীর স্বাস্থ্যসেবার প্রধান ভরসাস্থল কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিবেশ ও সেবার মান উন্নয়নে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের কার্যক্রম শুরু করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মুফতি আমির হামজা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এমন জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছেন এই নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
শুক্রবার সকাল থেকেই মুফতি আমির হামজার নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহিঃবিভাগ এবং আশপাশের ড্রেন ও ময়লার স্তূপ পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন। এ সময় তিনি নিজেও ঝাড়ু হাতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও পরিদর্শনকালে মুফতি আমির হামজার সঙ্গে ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক সুজা উদ্দিন জোয়ারদার, সহকারী সেক্রেটারি খায়রুল ইসলাম রবিন, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ডা. রায়হান, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাসির উদ্দিন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম, কুষ্টিয়া শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি শামীম আহমেদসহ স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন মুফতি আমির হামজা। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “হাসপাতালের অনেক সমস্যা আমি আজ নিজ চোখে দেখলাম। অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবার মান নিশ্চিত করতে বড় ধরনের বাজেট ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রয়োজন আছে। এ সমস্যাগুলো আমি দ্রুতই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
আমির হামজা এমপি বলেন, “বড় কিছু কাজের জন্য সময় লাগলেও কিছু সমস্যার সমাধান আমাদের আয়ত্তের মধ্যেই আছে। সেগুলো সমাধানে আমরা এখনই কাজ শুরু করে দিচ্ছি। সাধারণ মানুষ যেন হাসপাতালে এসে অন্তত ন্যূনতম স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও চিকিৎসকের সেবা পায়, সেটিই আমার প্রথম লক্ষ্য।”
দীর্ঘদিন ধরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ছিল। নতুন সংসদ সদস্য দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই এমন জনবান্ধব কাজে অংশ নেওয়ায় সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এমপির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং হাসপাতালের উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।