পবিত্র রমজানের প্রথম জুমায় ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই মসজিদ চত্বরে ছিল ভিন্নরকম এক আবহ। দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের উপস্থিতিতে জুমার আগেই মসজিদের ভেতর-বাইরে পূর্ণ হয়ে যায়।
বিশ্ব ঐতিহ্যের এই স্থাপনায় রমজানের প্রথম জুমা আদায় করতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা ছুটে আসেন। পর্যটকদের আনাগোনা তুলনামূলক কম থাকলেও ইবাদতে অংশ নিতে আগতদের ভিড়ে পুরো এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। জুমার নামাজে ইমামতি করেন মসজিদের ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন।
খুতবায় তিনি রমজানের তাৎপর্য, আত্মশুদ্ধি ও সংযমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
খুলনা থেকে আগত মুসল্লি আবদুল কাদের বলেন, “রমজানের প্রথম জুমা এখানে আদায় করার ইচ্ছা অনেক দিনের। এই মসজিদে নামাজ পড়লে মনে অন্যরকম শান্তি লাগে।”
ঢাকা থেকে আসা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “বিশ্ব ঐতিহ্যের এই মসজিদে জুমা পড়তে পারা সৌভাগ্যের। এতো মানুষের সঙ্গে একসাথে ইবাদত করতে পেরে ভালো লাগছে।”
স্থানীয় মুসল্লি হাফিজুর রহমান জানান, রমজানে প্রতি জুমায় এখানে ভিড় বাড়ে। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনা ভালো থাকায় মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারছেন।
আইনজীবী মাসুম শেখ বলেন, “ষাটগম্বুজ মসজিদে নামাজ পড়লে অনেক শান্তি পাওয়া যায়। এটি আমাদের গৌরবের একটি নিদর্শন। আল্লাহর ঘরে সেজদা দিতে পারায় নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হুসাইন বলেন, “প্রতি রমজানের প্রথম জুমা আমরা এখানেই আদায় করি। বন্ধুদের সঙ্গে একসাথে নামাজ পড়ার আনন্দ আলাদা।”
ভারপ্রাপ্ত ইমাম মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন জানান, রমজানকে ঘিরে মসজিদে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। দুজন সুনামধন্য হাফেজ দিয়ে খতম তারাবির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন দুই থেকে তিনশো রোজাদারের জন্য ইফতারের আয়োজন থাকে। শুক্রবারে সেই আয়োজন আরো বাড়ানো হয়।
তিনি আরো বলেন, রমজান মাসজুড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এই মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন, যা এলাকার ধর্মীয় আবহকে আরো প্রাণবন্ত করে তোলে।