বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সারা দেশে পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ভাষাশহীদদের প্রতি সম্মান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, আজ দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার বিধান রয়েছে।
তবে, যশোরের কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নিয়ম অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও জাতীয় পতাকা উড়ায়নি, কোথাও উড়ালেও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নামিয়ে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠান তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিন শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা যায়। এর মধ্যে, শহরতলীর খোলাডাঙ্গা কর্মজীবী সংস্থা শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তালাবন্ধ, ২৩৫ নম্বর খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১২৬ নম্বর কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাতীয় পতাকা উড়ানো বা অর্ধনমিত রাখার নিয়ম মানা হয়নি।
এ বিষয়ে খোলাডাঙ্গা কর্মজীবী সংস্থা শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর জাহান বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিদ্যালয় বন্ধ এবং পতাকা না উড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেন।
২৩৫ নম্বর খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদ হোসেন মনা বলেন, “সকালে স্কুল খোলার সময় পতাকা উড়ানো হয়েছিল। কিন্তু, চলে আসার সময় পতাকা নামিয়ে এসেছি।” এ সময় এই প্রতিবেদককে সংবাদ না প্রকাশে অনুরোধ করেন তিনি।
১২৬ নম্বর কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমেনা কবীর খান পতাকা না উড়ানোর বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন।
তিনি দাবি করেন, তারা স্কুল থেকে আসার সময়ও পতাকা উড্ডয়ন অবস্থায় ছিল। তবে, পরবর্তীতে স্বামীর মাধ্যমে ফোন করে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।
জাতীয় পতাকা বিধিমালানুসারে, ২১শে ফেব্রুয়ারি পতাকা উত্তোলনের সঠিক নিয়ম হলো—সূর্যোদয়ের পর প্রথমে পতাকাটি দণ্ডের শীর্ষভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে নামিয়ে দণ্ডের মাঝামাঝি বা অর্ধনমিত অবস্থায় বাঁধতে হবে। সূর্যাস্তের আগে পতাকাটি পুনরায় শীর্ষে তুলে তারপর পুরোপুরি নামিয়ে নিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায় এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে জানতে সদর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মুন্সী মোহাম্মদ সোহেল রানার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এই মুহূর্তে একটি মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলব।”